নারী হেনস্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুভেন্দু প্রশাসনের। রাস্তায় মহিলাদের উত্যক্ত করলেই এবার থেকে ‘রোমিও’দের জেলযাত্রা অবধারিত। নারী সুরক্ষা এবার বড় পদক্ষেপ নিল বর্তমান সরকার। নারীতে নিরাপত্তা দিতে বৃহস্পতিবার থেকে পথচলা শুরু দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াডের। এছাড়া প্রতিটি থানায় সাইবার হেল্পডেস্কও চালু করা হয়েছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের ঘোষণা রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, নারী হেনস্তার ঘটনায় কোনওরকম আপস নয়, সরকারের নীতি একটাই—‘জিরো টলারেন্স’। অর্থাৎ, রাস্তাঘাটে কোনও মহিলাকে উত্যক্ত, কটূক্তি বা হেনস্তা করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জেল, অপরাধীদের। শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবেও তা কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তায় নামানো হল ‘দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড’।
এদিন নবান্নের সভাঘরে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিক। দীর্ঘ আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অভয়ার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতা সমাজকে অনেক শিক্ষা দিয়েছে। সরকার তাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, মহিলাদের সুরক্ষার ব্যাপারে।
নারী সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্যের প্রায় ৫০০ থানায় ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বিশেষ মহিলা হেল্পডেস্ক। হেল্পডেস্কের দায়িত্বে থাকবেন বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা। গার্হস্থ্য হিংসার মতো ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। সমস্যায় পড়লে কোনও মহিলার প্রয়োজনীয় সহায়তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। ‘দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড’-এর মহিলা পুলিশকর্মীরা মোটরবাইক নিয়ে নিয়মিত রাস্তায় টহল দেবেন। স্কুল, কলেজ, অফিসপাড়া, বাজার কিংবা জনবহুল এলাকায় কোনও মহিলাকে উত্যক্ত করলে বা হেনস্তার অভিযোগ উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেবে এই বিশেষ বাহিনী। নারী নিরাপত্তাকে আরও কার্যকর করতে বসিরহাট, বনগাঁ এবং বারাসত প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে ১০টি অত্যাধুনিক মোটরবাইক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০টি রিয়েল-টাইম অডিও-ভিজুয়াল ট্রান্সমিশন ব্যবস্থাও চালু ইতিমধ্যেই। এই প্রযুক্তিতে কোনও ঘটনার লাইভ মনিটরিং করা সম্ভব। ফলে পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ এবং তদন্তে গতি আনা এখন আরও সহজ।
নারী সুরক্ষার পাশাপাশি বর্তমানে দ্রুত বাড়তে থাকা সাইবার অপরাধ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, সাইবার প্রতারণা এখন মহামারী। বিভিন্ন সরকারি সামাজিক প্রকল্পে আবেদন করার সময় সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে মুহূর্তের মধ্যে প্রতারকেরা টাকা সরিয়ে নিচ্ছে ! মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের অপরাধ রুখতে কেন্দ্র, রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের নিয়মিত আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপরও জোর তাঁর।এই জন্য রাজ্যের প্রতিটি থানায় চালু বিশেষ সাইবার হেল্পডেস্ক। বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সময় কোনওরকম দ্বিধা না রেখে প্রোটোকল মেনে কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনও পুলিশকর্মীর ওপর হামলা বা বাধা সৃষ্টি করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





