Header AD
Trending

ডিজে মামলায় আরও বিপাকে অভিষেক! সেবাশ্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সাংসদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ

Abhishek Banerjee

সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে চাপে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এবার ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রায়নগরের বাসিন্দা সুকদেব দাস। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। প্রতারণা, জালিয়াতি, ওষুধ ও প্রসাধনী আইন, পারমাণবিক শক্তি আইন-সহ বিভিন্ন আইনে অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।একই সঙ্গে ডিজে মামলায় এবার আরও বিপাকে সাংসদ।

এই মামলায় আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অয়ন ভট্টাচার্যের পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেকের আইনজীবী। বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, মঙ্গলবারের আগে কোনও আবেদন তিনি শুনবেন না। মঙ্গলবার নতুন করে অভিষেককে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তারপর দ্রুত শুনানি নিয়ে বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ৭৫ দিনব্যাপী স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার দাবি করা হয়। পরবর্তীতে নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের আরও বিভিন্ন জায়গায় এই ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রকল্প প্রথমে ব্যাপক প্রশংসা পেলেও বর্তমানে প্রকল্পটি একাধিক গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছে।

এর আগেও ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি সেবাশ্রয় ক্যাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ক্যাম্পে অনুমোদনহীন চিকিৎসা, অদক্ষ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা পরিষেবা এবং বেআইনিভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো অনিয়ম হয়েছে।

নতুন অভিযোগে সুকদেব দাস দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে প্রতারণামূলক উপায়ে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া, বেআইনিভাবে ওষুধ এবং রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র ব্যবহার করার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিওর নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে, সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত এক চিকিৎসক আগেই ক্যাম্পের ভেতরের অনিয়ম নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে চিকিৎসা পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে ঘুরপথে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হত।

ওই চিকিৎসকের দাবি অনুযায়ী, রোগীদের অনেক ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হতো, যদিও এই পরীক্ষাগুলি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় পড়ত না। প্রেসক্রিপশনে এই পরীক্ষা লেখা মাত্রই বিভিন্ন হাসপাতালের মার্কেটিং কর্মীরা সক্রিয় হয়ে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করতেন। হাঁটুর ব্যথা কিংবা অন্যান্য সাধারণ সমস্যার অজুহাতে রোগীদের ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত ভর্তি রাখা হতো, ফলে চিকিৎসার বিল দ্রুত বৃদ্ধি পেত। পরে সেই ব্যয় মেটানো হতো স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের তহবিল থেকে।

এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রমাণিত হলে, তা শুধু সেবাশ্রয় প্রকল্প নয়, সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিতে পারে।

অন্যদিকে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত মে মাসে বাগুইআটিতে একটি জনসভায় অভিষেক মন্তব্য করেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ বেলা ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাঁদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব!” অভিষেকের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন বাগুইআটির এক বাসিন্দা। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। আগামী ৮ জুলাই, বুধবার বিধাননগর আদালতে অভিষেককে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানেই ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার কথা সিআইডির। তার আগে মঙ্গলবার হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি হতে পারে।