তারাতলায় নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনে ধসের ভয়াবহ ঘটনার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হলেও বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল দ্রুত ও সমন্বিত উদ্ধার অভিযানের ফলে। এই সাফল্যের পেছনে ছিল বিপর্যয় মোকাবিলা দল, পুলিশ, দমকল, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অসামান্য সহযোগিতা ও সাহসিকতা।
শনিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মান জানিয়ে তাঁদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন।
এদিন অনুষ্ঠানে ১৬০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী, ১২০ জন বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্য, ৯০ জন রেলকর্মী এবং ৭৫ জন ট্রাফিক পুলিশ কর্মীসহ বহু উদ্ধারকারীকে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বর্তমান বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকাঠামোর কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক সরঞ্জাম এবং দক্ষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী বাহিনী গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতেও কলকাতাতে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এত সমন্বিতভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির একযোগে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করার নজির খুব কম। তাঁর আশ্বাস, আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাজ্যে গড়ে তোলা হবে।
বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো হয় সেই স্থানীয় বাসিন্দাদের, যারা সেদিন ভবনটির ছাদ ধ্বসে যাওয়ার পর প্রথম উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাঁরাই প্রথম ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের সাহায্য করেন এবং দ্রুত পুলিশ ও দমকলকে খবর দেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সাহস ও মানবিকতার প্রশংসা করে জানান, এই সাধারণ মানুষরাই সেদিন অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।





