Header AD
Trending

তারাতলা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান; চাকরি ও চিকিৎসার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

suvendu nabanna

তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিবার এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে এক অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক এবং আহতদের হাতে ১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। সেই সময় এক নিহত শ্রমিকের স্ত্রী চাকরির আবেদন জানালে তিনি জানান, কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে ও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে দায়িত্ব দিচ্ছি, ওনারা দেখে নেবেন কোথায় কী কাজের সুযোগ রয়েছে। আপনারা সরাসরি পুরসভায় যোগাযোগ করবেন। স্মিতা পাণ্ডে ও অগ্নিমিত্রা পাল বিষয়টা দেখে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জানাবেন। আশা করছি কিছু করতে পারব। আপনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাটাও একবার দেখতে হবে। মাধ্যমিক পাশ না হলে সমস্যা।”

তবে চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনা করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও চালুর বিষয়ে রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের সন্তানদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্বও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে নির্দেশও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন দুপুরে তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন আচমকাই ভেঙে পড়ে। সেই সময় সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল, ফলে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান। দুর্ঘটনার পর পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।