রবিবার হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে বিশ্বের বৃহত্তম দই প্রস্তুতকারী কারখানার শিলান্যাস হল। নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে ভার্চুয়ালি এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আমূলের হাত ধরে রাজ্যে তৈরি হতে চলেছে বিশ্বের দই কারখানা। এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নাম না করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন অমিত শাহ এবং শুভেন্দু। তাঁর ‘বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না’ মন্তব্য তুলে কটাক্ষ করেন শাহ ও শুভেন্দু।
সভা থেকে মমতার নাম না-করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কারা যেন বলত, বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না! তাঁরা আজ ঘরে বসে টিভিতে দেখছেন, আমূল আজ ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য।’’
একই সুর শোনা যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাতেও।তিনি বলেন, ‘‘আমূল আজ দেশের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদন প্রকল্পের শিলান্যাস করল। প্রতিদিন ১০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দই উৎপাদন করা হবে। এর ফলে ছোট ছোট দুগ্ধ উৎপাদনকারীরা উপকৃত হবেন। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, দু’টি ১৫ একর করে জায়গা দিন, তা হলে সারা পূর্ব ভারতের দুধ উৎপাদনের ব্যবস্থা এখান থেকেই হবে।’’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘একসময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলে বলা হত, গুজরাতকে আমরা ঢুকতে দেব না। আরে ভাই, এটা গুজরাতের জন্য নয়, বাংলার পশুপালকদের জন্য জরুরি। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি জমি দেওয়ার কথা, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই নিঃশুল্কে আমূল ফেডারেশনকে জমি দিয়েছেন। এর ফলে দুই থেকে আড়াই লক্ষ দুগ্ধ উৎপাদক বেশি টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবেন।’’ এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে রাজ্যে কর্মসংস্থান গতি পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের অন্তর্গত আমূল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলতে চলেছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি দৈনিক ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম দই এবং বিপুল পরিমাণ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদিত হবে।
ভার্চুয়ালি শিলান্যাস কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও।





