Header AD

ফলতার ব্যবধান টপকে নন্দীগ্রামে আরও বড় মার্জিনে বিজেপিকে জেতানোর ডাক শুভেন্দুর

mid day meal suvendu

২০২৬-এর ফলতা উপনির্বাচনে এক লক্ষেরও বেশি ভোটে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ তুলে নন্দীগ্রামেও আরও বড় ব্যবধানে পদ্মফুল ফোটানোর আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনা অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—নন্দীগ্রামের উন্নয়ন তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে থাকবে।

জনসভায় শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রাম ভাল থাকলে আমি ভাল থাকব।” একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি আবেদন করেন, আগামী উপনির্বাচনে ফলতার জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে বিজেপিকে জয়ী করতে হবে।

এদিন নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। ২০২৬ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি হয়েছে। আবার ২০১৬ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে নন্দীগ্রাম থেকেই ৮১ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছিলেন তিনি।

সেই পুরনো ফলের কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু বলেন, “একবার ৮২ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন। মনে আছে তো? ফলতার উপরে যাবেন তো? দু’হাত তুলে কথা দিন।” তাঁর দাবি, রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি নন্দীগ্রামকে দেওয়া হবে বিশেষ অগ্রাধিকার।

তৃণমূল সরকারের শেষ পাঁচ বছরে নন্দীগ্রাম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প আটকে রাখা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।রেল প্রকল্পকে এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু।

তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে রেলস্টেশন তৈরির জন্য মাত্র ছয় একর জমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আগের সরকার সেই জমি রেলকে দেয়নি। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন একর জমি হস্তান্তর করেছে এবং বাকি জমির কাজ আগামী মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রাম-বটতলা রেলস্টেশনে উঠব, বাজকুলে গিয়ে নামব। প্রথম ট্রেনে আমি-ই আপনাদের নিয়ে চড়ব। কারও কোনও অভাব থাকবে না।”রেলের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকে সরকারি বাস পরিষেবা আরও সহজ করতে নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

মাত্র সাড়ে তিন মাসের সরকারের আমলেই নন্দীগ্রামে ৩২টি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।এদিন নন্দীগ্রামের হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেরও খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনায় নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও ৭ হাজার মহিলা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও নন্দীগ্রামে পরিকাঠামো বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

রেয়াপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যাসংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।সবশেষে ২০২১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ফের আগের সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু।

তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর ৯ শহিদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়া হয়নি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় এসে ওই ৯টি পরিবারের সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।