ভোট এলেই বাংলায় দেখা যায় এক চেনা ছবি। বিজেপির পরিযায়ী নেতারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এসে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। সেই তালিকায় এবারও ব্যতিক্রম নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রায় ১৫ দিন অন্তর বাংলায় এসে তিনি একের পর এক বার্তা দিচ্ছেন। শনিবার ব্যারাকপুর ও শিলিগুড়িতে দুটি সভা থেকে অমিত শাহ (Amit Shah) দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য ১০ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছে। সরাসরি এই দাবির বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দাবি করেন, “কেন্দ্র বাংলাকে ঠিক কত টাকা, কোন খাতে দিয়েছে—তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক।”
শাহর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেস আমলে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সরকারকে সমর্থন করতেন, তখন বাংলায় মাত্র ২ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। অথচ মোদি সরকার নাকি তার পাঁচগুণ অর্থ পাঠিয়েছে এবং রেলসহ একাধিক “উপহার” দিয়েছে রাজ্যকে। দিল্লি যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ২০২১ সালের পর থেকে কেন্দ্র বাংলাকে ঠিক কত টাকা, কোন খাতে দিয়েছে—তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। যেখানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বকেয়া আদায়ের দাবিতে বারবার দিল্লিতে যেতে হচ্ছে, সেখানে ১০ লক্ষ কোটি টাকার দাবি আদৌ কতটা সত্য, তা স্পষ্ট করা কেন্দ্রের দায়িত্ব।
অভিষেক আরও বলেন, গত সাত বছরে বাংলা থেকে ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সের মাধ্যমে কেন্দ্র প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এই বিপুল অঙ্কের তুলনায় কেন্দ্র বাংলাকে আসলে কী দিয়েছে? ২০২১ সালের নির্বাচনের পর কতজন মানুষ বাড়ি পেয়েছে, কত গ্রামীণ রাস্তা তৈরি হয়েছে, কত জন ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে—এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে কেন্দ্রকে। উত্তরবঙ্গ নিয়ে অমিত শাহের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, রাজ্যের জন্য ৫৬১ কোটি টাকার বরাদ্দের কথা বলা হলেও কেন্দ্র মোট কত টাকা দিয়েছে তার স্পষ্ট হিসাব নেই।
জলজীবন মিশন প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, চলতি বছরে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চা শ্রমিকদের জমির অধিকার নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যকে তিনি মিথ্যাচার বলে আখ্যা দেন। আর সেই জায়গাতেই শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তুলে কেন্দ্রের কথিত উন্নয়নের হিসাব প্রকাশ্যে আনতে চ্যালেঞ্জ জানাল তৃণমূল নেতৃত্ব।





