পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী আইন ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব ও আইনবহির্ভূত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও বিধির বাইরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পরিচালনা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামো, মানবাধিকার এবং সংবিধানের মৌলিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮১০০ জন ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের ভূমিকা বা ক্ষমতার কোনও স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, কোনও আইনগত অধিকার ছাড়াই এই অবজার্ভারদের একপ্রকার কোয়াসি-জুডিশিয়াল ভূমিকা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ত্রিপুরা ক্যাডারের চারজন আইএএস আধিকারিককে অবজার্ভার হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকেই কাজ করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই আধিকারিকরা তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইআরও (ERO) ও এআরও (ARO)-দের উপরেই ন্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু মাইক্রো অবজার্ভারদের মাধ্যমে সেই আইনি প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই অবজার্ভাররা কি আদৌ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, নাকি তাঁদের কাজ শুধুই নজরদারির? বাস্তবে, ইআরও ও এআরও-দের ক্ষমতা খর্ব করে তাঁদের কার্যত অসহায় অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অন্য যেসব রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর চলছে, সেখানে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পরিচালনার পদ্ধতি অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন—তা শুনানির ধরন হোক, নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি, কিংবা ডোমিসাইল শংসাপত্রের মতো নথির গ্রহণযোগ্যতা।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার স্বার্থে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





