বঙ্গে প্রথম দফার ভোট মিটতেই দ্বিতীয় দফার প্রচার আরও জোরদার হয়েছে। শুক্রবার সকালে গঙ্গাবিহারের শান্ত আবহে দিন শুরু হলেও বেলা বাড়তেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয় হাইভোল্টেজ প্রচার। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর—একাধিক জনসভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র সুরে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বারুইপুরের টংতলা মাঠের সভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)-কে ঘিরে ‘নৈরাজ্য’র অভিযোগ তুলে সরব হন মোদি। এবার তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘ছাত্ররা প্রতিবাদের শামিল হওয়া মানেই অরাজকতা-নৈরাজ্য নয়।’
প্রধান এদিন তাঁর বক্তব্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গৌরবের কথা স্মরণ করে বলেন, একসময় বিশ্বজোড়া সম্মান ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের, যার ভিত ছিল জাতীয়তাবাদ। কিন্তু এখন ক্যাম্পাসে হুমকি, দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান, এবং পড়াশোনার বদলে আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা নৈরাজ্য ও অরাজকতার নামান্তর। তিনি দাবি করেন, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে বলেন, যে সরকার নিজের রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে পারে না, তারা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়বে—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেছেন । তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যের গর্ব, এবং ছাত্রদের প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার। তাঁর কথায়, “ছাত্রদের প্রতিবাদ মানেই অরাজকতা নয়। যাদবপুরের পড়ুয়ারা মেধার জোরে প্রতিষ্ঠিত হয়—এটাই বাস্তব। বাংলাকে এভাবে অপমান করা উচিত নয়।” মমতা আরও যোগ করেন, দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাদবপুরের মর্যাদা রয়েছে, এবং যুব সমাজের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখা নয়, বরং সম্মান জানানোই উচিত। তিলি লিখেছেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গর্ব। আমাদের যুবক-যুবতীরা আমাদের গর্ব। যাদবপুর দেশের এক নম্বরে। আমি মনে করি ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ করা উচিত।’
উল্লেখ্য, ভোটের ময়দানে এই ইস্যু ঘিরে দুই শীর্ষ নেতার এই বাকযুদ্ধ যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই যায়।




