কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget) পেশের পরই দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় ভোট পাবে না—এটা জেনেই রাজ্যকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে। নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitaraman) পেশ করা বাজেটকে কটাক্ষ করে তিনি এই বাজেটকে ‘Humpty-Dumpty বাজেট’ বলে কটাক্ষ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “এই বাজেটে শুধু বড় বড় কথা আছে, কাজের কিছু নেই। পুরোপুরি দিগভ্রান্ত, ভিশনলেস, মিশনলেস আর অ্যাকশনলেস বাজেট।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের কাছে বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া থাকলেও এবারের বাজেটে তার কোনও উল্লেখ নেই। কৃষক, শ্রমিক, পড়ুয়া—কাউকেই স্বস্তি দেওয়ার মতো কোনও ঘোষণা নেই, এমনকি নারী নিরাপত্তা নিয়েও বাজেটে স্পষ্ট দিশার অভাব।
তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কথার খেলাই হয়েছে বাজেটে। সাধারণ মানুষের উপকারে আসে—এমন একটা দিকও কি দেখাতে পারবেন? এটাই তো ‘Humpty-Dumpty’ বাজেট।” তাঁর অভিযোগ, বিহার অতীতে কেন্দ্রীয় বাজেটে সুবিধা পেলেও বাংলা এবার পুরোপুরি উপেক্ষিত। এর পরেই আরও এক ধাপ এগিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মমতা। বলেন, “ওরা জানে বাংলায় হারবে, তাই এই বঞ্চনা। ভোট পাবে না বুঝেই রাজ্যকে কিছুই দেয়নি।” ফ্রেট করিডর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “এই প্রকল্পের কথা আমি ২০০৯ সালেই বলেছিলাম। এত বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।”
কেন্দ্রের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “তারা রাজনৈতিকভাবে লড়াই না করে নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে হারতে হয়েছে এই কারণেই। বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ুতেও একই পরিণতি হবে।”
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বাজেটে বণিকমহলও হতাশ—এমন দাবিও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বাজেটের পর শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। সেনসেক্স প্রায় ১০০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছে।” সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটকে বাংলার স্বার্থবিরোধী বলেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





