Header AD

‘ভোটের দিকে তাকিয়ে নয়, বাংলার মানুষের জন্য বাজেট করেছি’, কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অন্তর্বর্তী রাজ্য বাজেট (Budget) পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। এই বাজেটকে সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি বাজেট বলে অভিহিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বাজেট শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, “ভোটের জন্য বাজেট তৈরি করিনি, বাংলার মানুষের জন্য করেছি। আমরা যেটা বলি, সেটাই করি।”পাশাপাশি এদিন কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন বাজেট প্রস্তাব পেশের পর কেন্দ্রীয় সরকারি বাজেটকে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তেমন কোনও বরাদ্দের ঘোষণা ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এত বঞ্চনা সত্ত্বেও এই বাজেট করলাম। কেন্দ্র তো বাংলাকে কিছুই দিল না।’’ কেন্দ্রের কাছে এখনও রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি জানান, কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেকারত্ব ৪৫.৬৫ শতাংশ কমেছে পশ্চিমবঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘‘এর জন্য আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এর মধ্যে আমরা ১ কোটি ৭২ লক্ষের বেশি মানুষকে দারিদ্রসীমা থেকে বার করে এনেছি।’’ কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বাজেট দিশাহীন, ভবিষ্যৎহীন, কর্মহীন। আমরা এখন গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মধ্যে এই বাজেট তৈরি করতে পেরেছি। এত কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও এটা করতে পেরেছি। আশা করি, মানুষ আমাদের উপর ভরসা রাখবে। আমি একা কিছু করিনি। সকলে মিলে করেছি। প্রত্যেক এজেন্সির লাঞ্ছনা সত্ত্বেও আমরা লড়ে যাচ্ছি। মানুষের ভরসা আছে আমাদের সঙ্গে।’’

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও এদিন কেন্দ্রকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্লান আমরা শুরু করেছি। গঙ্গাসাগর জুড়ে যাচ্ছে। অনেক ধর্মীয়স্থান, বেরিয়াল গ্রাউন্ডের কাজ হয়েছে।” মমতা জানান, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্য জুড়ে অনেক রাস্তা তৈরি হয়েছে। সর্বত্র পানীয় জলের সরবরাহ আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য বাজেটে আগামী অগস্ট থেকে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা নিয়ে মমতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে মাধ্যমিক পাশ বেকারদের পাঁচ বছরের জন্য আমরা ১৫০০ টাকা করে দেব। তাঁরা যে স্কলারশিপ পান, তা যেমন ছিল তেমনই থাকবে।’’

মমতা বলেন, “এত দিন রাজ্যে ৯৪টি প্রকল্প ছিল। আজ মনে হয় আরও পাঁচ-ছ’টি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। সুতরাং সেঞ্চুরি হয়ে গেল।” গিগ ওয়ার্কারদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি জানান, ” সামাজিক সুরক্ষা নেই গিগ ওয়ার্কারদের। একটা পোর্টাল খোলা হবে। সেখানে অ্যাপ্লাই করতে পারবে। একটা সার্ভে হবে। অসুস্থ হলে, মারা গেলে পরিজনরা সাহায্য পাবে।”

এর পরই কেন্দ্রের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং পশ্চিমবঙ্গের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার উল্লেখ করে শুয়োরানি-দুয়োরানির গল্পের কথা টেনেছেন মমতা। বলেন, ‘‘বাংলাকে ওরা বঞ্চনা করেই চলেছে। যেখানে পারছে, বাংলাদেশি বলে মারধর করে দিচ্ছে। বাংলা বললে বাংলাদেশি বলছে। অন্তঃসত্ত্বাকেও ছাড়া হচ্ছে না। কোনও টাকাই দিচ্ছে না। শুধু নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত। বলেছে, পহেলগাঁওয়ের জন্য আমরা দায়ী, দিল্লি বিস্ফোরণের জন্য আমরা দায়ী।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। সেই বিষয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘‘রায়ের কপি এখনও আমরা হাতে পাইনি। সেটা পড়ে দেখতে হবে। রায় নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। যে কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা আছেন। পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রতিনিধি নেই। আমরাও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছি। তাঁদের মতামত অনুযায়ী কাজ করব।’’

কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বিতর্কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের প্রসঙ্গ টেনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন , ‘‘আর কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়া হয় না। পশ্চিমবঙ্গে যা পাওয়া যায়, আর কোথাও পাওয়া যায় না। পেনশন বন্ধ করে দিলে আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত। কিন্তু যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভরশীল, তা হলে তাঁরা কী করবেন?’’
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা ভোটের দিকে তাকিয়ে বাজেট তৈরি করিনি। “