কেরল সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হল। মাত্র ১০ মাসের শিশুকন্যা আলিন শেরিনের অকালমৃত্যুর পর তার বাবা-মায়ের সাহসী সিদ্ধান্তে পাঁচ জন মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বলে উঠেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি কেরলের পাথানামথিত্তা জেলায় পথদুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আলিন। কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকেরা তার ‘ব্রেন ডেথ’-এর কথা জানান। সেই কঠিন মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আলিনের বাবা অরুণ আব্রাহাম ও মা শেরিন আন জন অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এই মানবিক সিদ্ধান্তের জন্য বাবা-মাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অসীম যন্ত্রণার মধ্যেও তাঁদের এই সিদ্ধান্ত বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান শোকবার্তায় লেখেন, “আপনাদের সন্তান এখন পাঁচ জনের মধ্যেই বেঁচে থাকবে।” রবিবার পাথানামথিত্তার একটি গির্জার বাইরে আলিনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কেরল পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় ‘গার্ড অফ অনার’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী।
দুর্ঘটনার পর আলিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোচিতে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরই অঙ্গ সংগ্রহ করে সেগুলি কোচি থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরের তিরুঅনন্তপুরমে পাঠানো হয়। রাতে কপ্টার চলাচলের অনুমতি না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে অ্যাম্বুল্যান্সে অঙ্গ পৌঁছনো সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আলিনের যকৃৎ প্রতিস্থাপিত হয়েছে ছ’মাসের এক শিশুর শরীরে এবং কিডনি দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের এক শিশুকে।





