রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ যেমন বদলেছে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরেও দেখা যাচ্ছে একাধিক পরিবর্তন। একসময়ের শাসক দল TMC এখন বিরোধী শিবিরে। নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর দলের অন্দরে মতভেদ ও নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনও ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বের বিরোধিতা করে দলের একাংশ আলাদা অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে। এরপর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হলে, তাঁদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘ভালো তৃণমূল’ নামে নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূলের বহু বিধায়ক। জানা গিয়েছে, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করেন এবং পরে তাঁকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই সমর্থকদের তালিকায় রয়েছেন বীরভূম (Birbhum) জেলার পাঁচজন তৃণমূল বিধায়কও। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। প্রত্যেকের সঙ্গে অতিরিক্ত দু’জন করে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে।
যাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন— কাজল শেখ (Kajal Sekh), রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং, মোশারফ হোসেন, চন্দ্রনাথ সিনহা (Chandranath Sinha) এবং বিধানচন্দ্র মাঝি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলে যে ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে। দলীয় সূত্রে জল্পনা, আগামী দিনে সংসদীয় দলেও একই ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এমনকী দলের একাংশ সাংসদও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।





