মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দীঘা সফরে এসে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে যোগ দিয়ে পর্যটন, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ও শিল্প উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও।সূত্রের খবর, দীঘা, তাজপুর, শংকরপুর ও মন্দারমণিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে দীঘা হাসপাতালের পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও সামনে আসে। একইসঙ্গে দীঘা-শংকরপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আওতাভুক্ত এলাকা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এদিন বিশেষভাবে চর্চায় ছিল দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আর ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম ব্যবহার করা হবে না। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি চিঠি এসেছে, যা রাজ্য সরকার গ্রহণ করেছে। আগের সরকারের দেওয়া ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’ নামের মধ্যে থেকে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এটি শুধুমাত্র ‘জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ নামেই পরিচিত হবে।
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের বহু প্রতীক্ষিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প ঘিরেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে, বন্দরটি আর তাজপুরে নয়, বরং দাদনপাত্রবাড় এলাকায় গড়ে তোলা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। যদিও উন্নয়নের পাশাপাশি পুনর্বাসনের দাবিও জোরালো হয়েছে।স্থানীয়দের মতে, দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হলে শুধু রামনগর নয়, গোটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের চেহারা বদলে যেতে পারে। নতুন শিল্প, ব্যবসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হয়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগের পথ খুলে যেতে পারে।
২০২২ সালে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। সে সময় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। নতুন করে দাদনপাত্রবাড়কে কেন্দ্র করে বন্দর প্রকল্পের আলোচনা শুরু হওয়ায় সেই সম্ভাবনা আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।





