ম্যাচের প্রথম দিকেই ইতিহাসে নাম লেখার সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু তাড়াহুড়ো না টেনশন বোঝা গেল না। আপামর ভক্তকে হতাশ করে বাইরে মারলেন ফুটবলের বরপুত্র। কিন্তু সেই আক্ষেপটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। ৩৮ মিনিটে অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়িয়ে দিয়ে ইতিহাসে নাম লিখে ফেললেন তিনি। জার্মানির ক্লোজেকে টপকে তিনি বিশ্বকাপে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে গেলেন। আর খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিলেন নক আউট স্টেজে।
৪০ বছর আগে এই ২২ জুন দিনটিকেই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দিয়েছিলেন মেসির উত্তরসূরি দিয়েগো ম্যারাডোনা। তাঁর হ্যান্ড অব গড গোলের সৌজন্যে দলকে পৌঁছে দিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। আর ওই একই দিনে মেসিও ইতিহাসে নাম তুলে যেন ম্যারাডোনাকে গুরুদক্ষিণা প্রদান করলেন।
অস্ট্রিয়া ম্যাচ জিতে আর্জেন্টিনাকে নক আউট নিয়ে যেতে দলকে আক্রমণাত্মক খেলতে বলেছিলেন কোচ স্কালোনি। আর ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করে ছিলেন কখন তাঁদের স্বপ্নের নায়ক একটি গোল করে কাঙ্খিত বিশ্বরেকর্ড করবেন। সহজ সুযোগ এসে গিয়েছিল ৯ মিনিটে। বক্সের মধ্যে লওতারো মার্টিনেজকে ট্যাকেল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ফুটবলার। ভার দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। গোটা স্টেডিয়াম তখন বিস্ফোরণের অপেক্ষায়। পেনাল্টি মারতে যান আর্জেন্টিনার অধিনায়কই। গোলকিপার আর আলেকজান্ডার শ্লেগারের বাঁদিকে মাটি ঘেঁষা শট নেন কিন্তু শটে তেমন জোর ছিল না। বল পোস্টের বাইরে চলে যায়।
১৯ মিনিটে ফের একবার আলেকজান্ডারকে একা পেয়েও তার গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। ধীরে ধীরে খেলা ধরে নেয় অস্ট্রিয়া।
আক্রমণ প্রতি আক্রমণে যখন ম্যাচ জমে উঠেছে, তখনই আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। আলমাডা থেকে মেডিনা হয়ে মুখের মধ্যে বল পেতে দুরন্ত শটে গোল করেন মেসি। এই বিশ্বকাপে নিজে চতুর্থ গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই টুর্নামেন্টের সর্বাধিক গোলের নজির গড়ে ফেলেন তিনি।
প্রথমার্ধে আর গোল না হলেও হাফ টাইমের পর আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ভালো আক্রমণ তুলে আনলেও বক্সের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন স্কালনির দলের স্ট্রাইকাররা। তাই গোল কিছুতেই আসছিল না। বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ করে অস্ট্রিয়াও। ম্যাচের একেবারে অন্তিম লগ্নে বক্সের মধ্যে আর্জেন্টিনার তিনজন ফুটবলার ঢুকে পড়েন। আলভারেজের শট বাঁচিয়ে দেন শ্লেগার। সেই চলতি বলে শট নেন মেসি। সেটাও প্রতিহত হয়। ফিরতে বল দুরন্ত প্লেসিংএ জালে জড়িয়ে দেন এল এম টেন। হাফ ছেড়ে বাঁচে আর্জেন্টিনা। এই বিশ্বকাপে ৫ নম্বর গোল করে সবার আগে চলে গিয়েছেন মেসি। সেই সঙ্গে নিজের বিশ্বকাপ গোলের সংখ্যাও পৌছে দিলেন ১৮ তে।





