সাড়ে তিন ঘণ্টা অতিক্রান্ত! এখনও ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যা প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে তাঁর গাড়ি সিআইডি সদর দফতরে প্রবেশ করে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোনও মন্তব্য না করেই তিনি প্রথমে ভবনের ভিতরে চলে যান। পরে নিয়ম মেনে উপস্থিতির নথিতে স্বাক্ষর করতে প্রধান ফটকে এসে আবার দপ্তরে ফিরে যান।
এদিনই দিল্লি সফর শেষে বিকেলে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক। বিকেল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে সরাসরি ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। এর আগে একাধিকবার তিনি হাজিরা এড়িয়েছিলেন। একবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়েছিলেন, আবার অন্য একবার রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শহরের বাইরে থাকার কথা জানিয়েছিলেন।এরই মধ্যে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচের আবেদন করেন।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেয়, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিষেককে ভবানী ভবনে উপস্থিত হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে আদালত একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না সিআইডি। আগামী দুই সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই সুরক্ষা বহাল থাকবে।
এদিকে, মামলার শুনানির আগেই অভিষেকের আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে অভিষেকের আচরণ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কাউকে একজনকে বেছে নিতে হলে তিনি মমতার পক্ষেই থাকবেন। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
হাই কোর্টের নির্দেশের পর অভিষেকের হাজিরা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ভবানী ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাঁদানে গ্যাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে স্পিকারের কাছে তৃণমূল পরিষদীয় দলের জমা দেওয়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। কারও নাম আবার ব্লক লেটারে লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। সেই কারণেই তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছে সিআইডি।
এর আগে সিআইডি তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিলেও তিনি হাজিরা দেননি। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কিছু মানুষের তরফে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও শোনা যায়। যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি অভিষেক। ইতিমধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনাও সংগ্রহ করেছে সিআইডি।





