বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন TMC-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তবে শুক্রবার তাঁর আবেদনের জরুরি শুনানি করতে রাজি হয়নি আদালত। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলার শুনানি হবে আগামী ১০ জুন।
এই মামলায় অভিষেককে আগামী ৮ জুন ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে CID। এর আগে তিনি একবার তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতার জন্য অতিরিক্ত ১৫ দিনের সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সিআইডি তাঁকে নির্দিষ্ট দিনেই হাজির হতে বলায় সেই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা করেন তিনি। পাশাপাশি গ্রেফতারের আশঙ্কায় আগাম জামিনের আবেদনও জানান।
শুক্রবার তাঁর আইনজীবীরা মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানালেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। ফলে আপাতত কোনও রক্ষাকবচ পাননি অভিষেক। এই পরিস্থিতিতে তিনি আগামী সোমবার সিআইডির ডাকে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৭ জুন তিনি দিল্লি যেতে পারেন, যেখানে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ( Shovandeb Chatterjee) নাম প্রস্তাব করে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, কয়েকটি স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। কারও স্বাক্ষরের বদলে শুধু বড় হাতের অক্ষরে নাম লেখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেয় রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই কয়েকজন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। যেহেতু ওই চিঠিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও ছিল, তাই তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritobroto Banerjee) ও সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha)স্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগ করেছেন। সেই ঘটনার পর দল তাঁদের বহিষ্কার করে। কিন্তু পরদিনই নতুন মোড় আসে। বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করে ৫৯ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে পৃথক চিঠি জমা দেন। পরে ঋতব্রত বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন। এর ফলে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এখন নজর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সিআইডির তলব, আদালতের শুনানি এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ— সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।





