পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কমিশনের তরফে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে বিজেপি ও কমিশন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে শেয়ার করা ওই কথিত স্ক্রিনশটে দাবি করা হয়েছে, স্বাস্থ্যশিবিরের আড়ালে টাকা পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই নির্দেশ জারি হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ছাড়া দলের অন্য নেতা-মন্ত্রীরা কেউই তল্লাশির বাইরে থাকবেন না। এমনকি দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীর গাড়িও বিশেষভাবে চেক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মেসেজে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেন কোনওভাবেই এই দুজনের গাড়ি চেকিংয়ের আওতার বাইরে না যায়। তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন (ECI) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে পুলিশ, অন্যান্য পর্যবেক্ষক এবং CAPF কর্মকর্তাদের AITC-র নেতা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের যানবাহনে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশাবলীর মধ্যে AITC-র সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নামও উল্লেখ করা হয়েছে। AITC-র প্রচার সংক্রান্ত কার্যকলাপ, জনসংযোগ কর্মসূচিকেও টার্গেট করা হয়েছে।’সেই মেসেজের স্ক্রিনশট তুলে ধরেই কমিশনকে একহাত নিয়েছে তৃণমূল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। দলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে এবং বিজেপির স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই বিরোধীদের টার্গেট করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। আর হাতে গোনা কয়েক দিনের অপেক্ষা। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল এনেছে, যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই নতুন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।





