দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তারির পরই এবার তদন্তকারীদের নজরে তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি (Aditi Munsi)। বৃহস্পতিবার তাঁকেও প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের একাধিক বাড়িতে তল্লাশিও চালানো হয়।এদিকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর তরফে দেবরাজের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সূত্রে খবর, দেবরাজের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে অদিতি কতটা জানেন, তা স্পষ্ট করতে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার রাতে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় এলাকার এক রিসর্ট থেকে দেবরাজকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাঁরা জানতে পারেন দেবরাজ অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় তাঁর এক ঘনিষ্ঠের রিসর্টে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তারপরেই পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট রীতিমতো টিম বানিয়ে হাজির হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ধৃত দেবরাজকে বারাসত আদালতে তোলা হয়। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে আদালত চত্বরে ডিম হামলা হয়। দেবরাজকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসনে বিধায়ক হন দেবরাজের স্ত্রী কীর্তন গায়িকা অদিতি মুন্সি। দেবরাজের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দেবরাজ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজ ও অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। অদিতির রক্ষাকবচের আবেদন হাই কোর্ট মঞ্জুর করলেও আদালত দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। কার্যত তার পর থেকেই পুলিশ দেবরাজকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল পুলিশ।
প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সূচনা। ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন দেবরাজ। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ২০১৫-তেও মেলেনি টিকিট। তারপর কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বিধাননগর পুরনিগম এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েন তিনি। জিতেওছিলেন। পরবর্তীতে ফিরে যান তৃণমূলে। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে তিনিই রাজনীতিতে নিয়ে আসেন।





