নদিয়ার পলাশিপাড়া কেন্দ্র থেকে বিধানসভার টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৪০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে আইনি চাপে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধায়ের( Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায় এবং আইপ্যাকের অন্যতম কর্তা প্রতীক জৈন। এই অভিযোগে কৃষ্ণনগর জেলা ও দায়রা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক তৃণমূল নেতা। একই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে আইপ্যাকের এজেন্ট রিঙ্কি মল্লিককেও।
অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হলেও তাঁর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পলাশিপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর মক্কেলের কাছ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ওই কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় রুকবানুর রহমান-এর (Rukbanur Rahman) নাম। অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ওই নেতার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।আইনজীবীর দাবি, আদালত ইতিমধ্যেই মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং খুব শীঘ্রই শুনানি শুরু হতে পারে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। একাধিক নেতা দলীয় টিকিট বণ্টন প্রক্রিয়া এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থী নির্বাচনের নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
এর মধ্যেই সুমিত রায়ের নাম আরও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছে। জমি জালিয়াতি ও মাটি চুরির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই তদন্ত চলছে। সূত্রের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং সিআইডি লুক-আউট নোটিসও জারি করেছে। এবার ভোটের টিকিট দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে নতুন মামলার মুখে পড়ায় তাঁর আইনি জটিলতা আরও বাড়ল।





