ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার উঠল আমফান ত্রাণে দুর্নীতির অভিযোগ। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। তাঁর দাবি, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে শাসকদলের একাধিক নেতা-নেত্রী জড়িত। একইসঙ্গে তিনি জেলা পুলিশের কাছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আবেদনও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২০ মে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আমফান। সেই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল পরিমাণ আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সেই তহবিলের বড় অংশ প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
অভিজিৎ দাসের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণুপুর-১ ব্লকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সংস্কারের জন্য প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সরকারি নথিতে ৩১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে সেই সংখ্যা ৩৪ হাজার দেখানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। একইভাবে বিষ্ণুপুর-২ ব্লকেও প্রায় ৩২ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি ত্রাণ পেয়েছেন, এমনকি একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিক উপভোক্তার নাম দেখানো হয়েছে। কোথাও কোথাও একই পরিবারের ১১-১২ জন সদস্যের নামে ত্রাণ বরাদ্দের অভিযোগও উঠেছে।
বিজেপি নেতার বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র একটি থানার অভিযোগ নয়। আগামী দিনে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার প্রতিটি থানায় একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হবে। পাশাপাশি তৎকালীন বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান, জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আরও কয়েকটি বিতর্কিত মামলাকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় ইতিমধ্যেই তাঁকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পাশাপাশি ডিজে মন্তব্য বিতর্কেও তদন্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। এর মধ্যেই আমফান ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে নতুন FIR রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।তবে অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন।





