তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হল। মঙ্গলবারের পর আজ বুধবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের আরও এক সাংসদ ইস্তফা দিলেন। দলের সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগের একদিন পরই রাজ্যসভার (Rajya Sabha) সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব (Susmita Dev)।ছাড়লেন তৃণমূলও। ফলে সংসদের উচ্চকক্ষেও তৃণমূলের ভিতরে অসন্তোষ ও বিভাজনের প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র সই জাল কাণ্ড- এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূল দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে আসল তৃণমূল। সেই হাওয়া পৌঁছে গিয়েছে দিল্লিতেও। লোকসভাতেও হয়েছে ‘অপারেশন লোটাস’।এর পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ও লোকসভা স্তরে দলীয় অস্বস্তির আবহ রাজ্যসভাতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অসমের রাজনীতির পরিচিত মুখ সুস্মিতা দেবকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি অসমে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল।এই আবহেই তাঁর ইস্তফা সেই আলোচনাতেই একপ্রকার সিলমোহর দিল বলা চলে।
ইস্তফার পরই বুধবার দিল্লিতে বিজেপি শাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠকের খবর সামনে আসে। সেই বৈঠকের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়। বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।
দল ছাড়ার পর সুস্মিতা দেব বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোন রাজনৈতিক দলে থাকা বা যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক কখনও ছিল না এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করতে চান না। তাঁর লক্ষ্য অসমের মানুষের জন্য কাজ করা।

এদিন তাঁর সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইলেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সেখানে নিজেকে আর রাজ্যসভার বর্তমান সদস্য নয়, প্রাক্তন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দলের সঙ্গে সুস্মিতা দেবের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলিতেও বিশেষ দেখা যায়নি।
সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের পরপর পদত্যাগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১-তে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, দলের আরও কোনও সাংসদ আগামী দিনে একই পথে হাঁটেন কি না, সেদিকেই।





