গত ডিসেম্বর থেকে লিওনেল মেসির (Leo Messi) ভারত সফরকে ঘিরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা ফের নতুন মোড় নিল। এবার বিধানগরের কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিম। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম গাফিলতি এবং প্রোটোকল ভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে তারা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।একই সঙ্গে প্রোটোকল ভেঙে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মেসির কাছে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর ফলে অরূপ বিশ্বাস আরও বিপাকে পড়লেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেসির স্টেডিয়াম সফরের সময় আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর ছিল। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথির প্রবেশের অনুমতি ছিল না। শুধুমাত্র তিনজন অনুমোদিত ক্যামেরা অপারেটর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অভিযোগ, সেই নিয়ম অমান্য করে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে প্রবেশ করেন এবং পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে একাধিক কাজ করেন।
মেসির টিমের দাবি, ছবি তোলার সময় অরূপ বিশ্বাস বারবার ফুটবল মহাতারকার খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শে আসার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মেসির কাঁধ ও কোমরে হাতও রেখেছিলেন, যা নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত পরিসরের দিক থেকে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
শুধু তাই নয়, সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়াই বহু মানুষ ওই এলাকায় ঢুকে পড়েন। এমনকি প্রায় ৪০ জন ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরা অপারেটরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের কোনও অনুমোদন ছিল না। এর ফলে মাঠে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে।
ম্যানেজমেন্ট টিমের দাবি, এই পরিস্থিতিতে মেসির নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত পরিসর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই কারণেই নির্ধারিত কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয় এবং পরিকল্পনার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে যেতে বাধ্য হন মেসি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।
এ প্রসঙ্গে মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত জানান, মেসির ট্যুরের কনসালট্যান্ট ও অ্যাডভাইজার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারকে ই-মেল করে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে সেদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। পাশাপাশি, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শের চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়েছে। শতদ্রুর দাবি, বহু অননুমোদিত ব্যক্তির মাঠে প্রবেশের কারণেই সফরের কিছু অংশ বাতিল করতে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওই ই-মেলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঘটনার জন্য তিনি কোনওভাবেই দায়ী নন। তাঁর কথায়, “এবার সত্য সামনে আসবে। যিনি চিঠি লিখেছেন, তিনি শুধু অ্যাডভাইজার নন, ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন। আমাকে গ্রেপ্তার করার সময়ও এই বিষয়গুলি বারবার তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ নিজেদের এবং অরূপ বিশ্বাসকে রক্ষা করতে সেই অভিযোগগুলিকে সেই সময় গুরুত্ব দেয়নি।”





