SIR তদন্তে যাওয়া বিচারকদের রাতভর আটকে রেখে হেনস্তার অভিযোগে ফের ধাক্কা খেলেন মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম (Mofakkerul Islam)। তাঁর জামিনের আবেদন আবারও খারিজ করে দিল NIA-র বিশেষ আদালত। একইসঙ্গে এই মামলায় আরও ৫২ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদনও নাকচ হয়েছে। বৃহস্পতিবার মোথাবাড়ি কাণ্ডে (Mothabari Incident) শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে কাউকেই জামিন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে মোফাক্কেরুল ইসলাম-সহ মোট ৫২ জনকে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনাটি গুরুতর এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে—এই কারণেই আপাতত জামিন মঞ্জুর করা হয়নি।
১ এপ্রিলের ঘটনাকে। এসআইআর সংক্রান্ত কাজে কমিশনের (ECI) গড়া ট্রাইব্যুনাল মালদহে পৌঁছলে মোথাবাড়িতে তাঁদের ঘিরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পরে বিডিও অফিসে রাতভর আটকে রাখা হয় বিচারকদের। এই ঘটনায় মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই অভিযোগ ওঠে। দাবি করা হয়, ওইদিনই সুজাপুরে একটি সভা করে তিনি এসআইআর ইস্যুতে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তার পরই রাতে মোথাবাড়িতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এই ঘটনাটি ঘটে। এত গুরুতর পরিস্থিতি সামলাতে না পারায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিচারকদের আটকে রাখার মতো ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি গড়ায় শীর্ষ আদালত পর্যন্ত, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের তরফেও কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। মূল অভিযুক্ত হিসেবে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে। এরপর ধাপে ধাপে আরও একাধিক অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। সেই কারণে ধৃতদের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় এনআইএ আদালতে জানায়, অভিযুক্তদের ফোনকলসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে তাদের আরও সময় প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে এই আবেদন মেনে নেয় আদালত। ফলে বিচারক নির্দেশ দেন, মোফাক্কেরুল ইসলাম-সহ সকল অভিযুক্তকে আরও ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হবে। আগামী ১৩ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।





