Header AD
Trending

রাজ্যসভা ভোটে কংগ্রেসের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বিজেপির অঙ্ক, গুজরাতে শূন্য হওয়ার আশঙ্কা

bjp congress rajyasabha

রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) রাজ্য গুজরাতে কংগ্রেসের (Congress) উপস্থিতি কার্যত মুছে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক রাজ্যে সম্ভাব্য ক্রস ভোটিং নিয়েও উদ্বিগ্ন কংগ্রেস নেতৃত্ব।

নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, আগামী ১৮ জুন আটটি রাজ্যের মোট ২৬টি রাজ্যসভা আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ২৪টি আসনে বর্তমান সাংসদদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, আর দুটি আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে সাংসদদের পদত্যাগের কারণে। সোমবার ৮ জুন থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।

যে রাজ্যগুলিতে ভোট হবে, তার মধ্যে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরাম। এছাড়া মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর দুটি শূন্য আসনেও উপনির্বাচন হবে।

বর্তমানে এই আসনগুলির মধ্যে BJP-র দখলে রয়েছে ১২টি। এনডিএ জোটের হাতে রয়েছে আরও কয়েকটি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেসের হাতে মাত্র চারটি আসন রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবার এনডিএ ১৭ থেকে ১৮টি আসন জিততে পারে। ফলে রাজ্যসভায় তাদের সংখ্যা ১৫০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে উচ্চকক্ষে এনডিএর সদস্যসংখ্যা ১৪৮।

কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে গুজরাতে। রাজ্যসভায় দলের একমাত্র প্রতিনিধি শক্তিসিন গোহিলের মেয়াদ ২১ জুন শেষ হচ্ছে। বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়ক না থাকায় তাঁকে পুনর্নির্বাচিত করার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে দীর্ঘদিন পর গুজরাত থেকে কংগ্রেসের কোনও রাজ্যসভার সাংসদ না-ও থাকতে পারেন।

এছাড়া মধ্যপ্রদেশেও কংগ্রেসের উদ্বেগ বাড়ছে। সেখানে চারটি আসনের মধ্যে বিজেপির অন্তত দুটি আসনে জয় প্রায় নিশ্চিত। কংগ্রেসের একটি আসন পাওয়ার মতো সংখ্যা থাকলেও মাত্র কয়েকজন বিধায়কের ক্রস ভোটিং গোটা অঙ্ক বদলে দিতে পারে।

রাজস্থানেও একই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে কংগ্রেস একটি আসন জেতার অবস্থায় থাকলেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে মতভেদ দেখা দিয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে রাজ্যসভায় পাঠাতে আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে, তবে তিনি তাতে খুব একটা উৎসাহী নন। অন্যদিকে পবন খেড়ার মতো নেতারাও প্রার্থী হওয়ার দাবিদার।

ঝাড়খণ্ডেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। সেখানে কংগ্রেস ও জেএমএম জোট একসঙ্গে লড়লে দুটি আসনই জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু জেএমএম কংগ্রেসকে আসন ছাড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি যেখানে নিজেদের শক্তি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে, সেখানে কংগ্রেসকে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। আগামী ভোটের ফল উচ্চকক্ষের ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।