ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা (Post Poll Violence), ঘরছাড়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনেও সেই ইস্যু উত্থাপন করেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovondeb Chatterjee)। তাঁর বক্তব্য, একাধিক এলাকায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা আতঙ্কে ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, অভিযোগগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। কোথাও সত্যিই কেউ ঘরছাড়া হয়ে থাকলে প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সসম্মানে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই প্রসঙ্গে শর্তও বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা মামলা নেই, অথচ তাঁরা ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদেরই ফেরানোর উদ্যোগ নেবে সরকার। অর্থাৎ, অতীতের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে আলাদা করে যাচাই করা হবে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই সৌজন্যের ছবি দেখা গেল রাজ্য রাজনীতিতে। শুক্রবার স্পিকার পদে শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিরোধী শিবির আলাদা কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় সর্বসম্মত ভাবেই স্পিকারের আসনে বসেন তিনি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানানোর পরই অবশ্য অধিবেশনের আবহ বদলে যায়। বক্তব্য রাখতে উঠে ভোট এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উৎসব বলা হয়। আপনারা বলছেন ভয় আউট ভরসা ইন। আপনাদের সভাপতি বলছেন আমাদের জ্ঞান দিয়ে রাস্তায় নামতে। এদিকে আমাদের অসংখ্য মানুষ রাস্তায়। ঘর ছাড়া।’ এরই মধ্যে বিধানসভা কক্ষে বিরোধী বিধায়করা স্লোগান দিতে শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, “আজ ভয় আছে, ভরসা নেই। মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, ভয় নেই যখন বলেছেন সেটা ব্যবস্থা করুন। অগণতান্ত্রিক, উপায়ে যা হয়েছে তাতে স্বৈরাচারীর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। গণতন্ত্র ধ্বংস হলে মুশকিল।”
বিধানসভাতে এমন অভিযোগ ওঠা মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এতে হস্তক্ষেপ করে নিজের দায়িত্ব নেন সকলকে ঘরে ফেরানোর। তবে এর সাথে শর্ত বেঁধে দিয়ে বিরোধী দলনেতা শোভনদেবকে বলেন,
“মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকাতে। কেউ ঘরছাড়া আছে বলে আমার জানা নেই। আপনি ডিজিপির কাছে তালিকা দিন। কিন্তু পরিষ্কার শর্ত, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় তার নাম নেই। যার অভিযোগ নেই তাকে সসম্মানে বিজেপি বিধায়ক ও এসপি ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসবে। না হলে জেলে যেতে হবে অভিযোগ থাকলে।“





