Header AD

ভোটে আইনশৃঙ্খলার নজরদারিতে রাজ্যে ফের নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

Election Observer

ভোটের (Election In Bengal) মাত্র দশদিন আগে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে ফের পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এবার ভিনরাজ্য থেকে একজন আইপিএস অফিসারকে বাংলায় এই দায়িত্বে আনা হয়েছে। নবনিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক সর্বানা বিবেক এম, যিনি ওড়িশা ক্যাডারের একজন আইপিএস অফিসার। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন।

এর আগেও একাধিকবার পুলিশে বড়সড় রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে সরানো হয়েছে বহু পুলিশ আধিকারিক ও আইপিএস অফিসারকে। এমনকি, ভিনরাজ্যের আধিকারিকদেরও বাংলার ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বারবার সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল। তবে সেই আপত্তি সত্ত্বেও বদলির ধারা থামেনি, সেটা পরিষ্কার। বরং পুলিশ প্রশাসনে রদবদল যেন নিয়মিত ঘটনাতেই পরিণত হয়েছে।

বাংলার ভোটে ইতিপূর্বে আশান্তির সাক্ষী থেকেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ—এই জেলাগুলিতে একাধিক অশান্তির ঘটনা সামনে আসে। তবে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ছবি কিছুটা আলাদা ছিল। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। ভোট চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে বড় কোনও হিংসার ঘটনা বা প্রাণহানির খবর সামনে আসেনি, যা স্বস্তি জুগিয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে।

ছাব্বিশের নির্বাচনে চব্বিশের সেই শান্তিপূর্ণ ধারা বজায় রাখতে আগেভাগেই তৎপর নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যে ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিককে শুধুমাত্র কমিশনের নির্দেশ মেনে চলার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার প্রভাব মেনে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদেরও সতর্ক করা হয়েছে—যে কোনও ধরনের হিংসার ঘটনা চোখে পড়লেই দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।