Header AD
Trending

তৃণমূলের ‘আসল’ দাবিতে দ্বন্দ্ব! পাল্টা চালে নির্বাচন কমিশনে মমতা, কমিশনের দ্বারস্থ ঋতব্রতর তৃণমূলও

mamata 1

তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীর সংঘাত এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দরজায়। দলের নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোর উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দ্রুত পদক্ষেপ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে তাঁর নেতৃত্বাধীন শিবির।নতুন তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাখা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়া রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে ঋতব্রতর তৃণমূলও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁরাও নিজেদের নবগঠিত কমিটির তথ্য নিয়ে পৌঁছে যায় সিইও দপ্তরে। পরে সেখানে তারা সাংবাদিক বৈঠক করে।

Oplus_16908288

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় সংগঠনের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অটুট রাখতেই এই পদক্ষেপ করেছে কালীঘাট শিবির।এরই মধ্যে কড়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কয়েকজন প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সোমবার রাতেই তাঁদের শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা না করেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত তথাকথিত ‘আসল তৃণমূল’-এর সঙ্গে এই নেতাদের ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশ্যে আসে। ঋতব্রত নিজেই সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছিলেন যে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাঁদের পাশে রয়েছেন। নিউটাউনের এক বৈঠকে ঋতব্রতের মঞ্চে অরূপ রায়, স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও সাবিনা ইয়াসমিনদের উপস্থিতিও সেই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট তীব্র হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে বিরোধী শিবিরের স্বীকৃতি আদায়ের দাবি তোলে। সোমবার নিউটাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে তারা নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণাও করে। সেই কমিটিতে মমতা বা অভিষেকের কোনও স্থান রাখা হয়নি। চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চারজন নেতাকে।ঋতব্রত শিবির জানিয়েছিল, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের নতুন কমিটির তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। সেই কথা মতো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঋতব্রতর তৃণমূলও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের নব নির্মিত কমিটির তথ্য দিয়েছে।

তবে তার আগেই পালটা কৌশল নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলেই দ্রুত সংশোধিত কমিটির তালিকা তৈরি করে কমিশনে পাঠানো হয়। সেই তালিকায় স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৫ জুন কালীঘাটে ঘোষিত জাতীয় কর্মসমিতিতে অরূপ বিশ্বাসের নাম থাকলেও সর্বশেষ সংশোধিত তালিকা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে একই রাজনৈতিক দলের দুটি পৃথক জাতীয় কর্মসমিতি নিয়ে এখন আইনি ও সাংগঠনিক লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত আদালতের দোরগোড়াতেও পৌঁছতে পারে।