তারাতলা বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি। দুদিন কেটে গেলেও এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। এই ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিতে তৎপর রাজ্য সরকার। এই নির্মাণ বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী একাধিক পুর এলাকায় নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক জি+৫ বহুতলের নিরাপত্তা ও কাঠামোগত মান খতিয়ে দেখতে আপাতত একমাসের জন্য নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি অডিটে ত্রুটি ধরা পড়লে নির্মাণ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার পিডব্লুডি টেন্টে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, কলকাতা পুর এলাকা, বিধাননগর (Bidhannagar), রাজারহাট (Rajarhat),নিউটাউন (New Town),পূজালি (Pujali), বারুইপুর (Baruipur),মহেশতলা (Maheshtala), রাজপুর- সোনা্পুর (Rajpur Sonarpur)-এর সঙ্গে দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং বালিতেও আপাতত সব বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতল নির্মাণ বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য তারাতলা বিপর্যয়ের পর শহর ও শহরতলির বাণিজ্যিক নির্মাণ গুলি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির ‘স্বাস্থ্যপরীক্ষা’ করবে। প্রাথমিকভাবে ভবনের নকশা পরীক্ষা করা হবে। বড়সড় গলদ বা গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন বাতিলও করা হতে পারে বলে এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে সামান্য ত্রুটি থাকলে নির্মাণ সংস্থাকে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, নগরায়ণ থামিয়ে দেওয়া সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। তাই নির্মাণের গুণমান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নিরাপত্তা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে।
আগামী সাত দিনের মধ্যে অডিট কমিটিকে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত রিপোর্ট জমার সময়সীমা ৯০ দিন। অডিটে সন্তোষজনক ফল মিললে আগামী ১ আগস্ট থেকে ফের নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র বাণিজ্যিক বহুতলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির সংস্কার বা নির্মাণকাজ এই নিয়ন্ত্রণের আওতার বাইরে থাকবে।





