বহু বছর ধরে পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও সেই প্রকল্প এখনও বাস্তবের মুখ দেখেনি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বুধবার আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার করণ আদানির সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu adhikari) জানান, জমির অভাবের কারণে তাজপুরে আর গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পরিবর্তে তাজপুরের কাছেই দাদনপাত্রবাড় এলাকায় নতুন বন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাজপুরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সরকারি জমি না থাকায় সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তাজপুর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত নুন কারখানার প্রায় ১,৭০০ একর জমি রয়েছে। সেই জমিকেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আদানি গোষ্ঠীর কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে তাজপুরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার গ্রিনফিল্ড গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বন্দরকে ঘিরে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কথাও ছিল। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছিল আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন (APSEZ)। ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে করণ আদানির হাতে প্রকল্পের লেটার অফ ইনটেন্ট তুলে দেন।
তবে এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। যদিও সরকারিভাবে কখনও জানানো হয়নি যে আদানি গোষ্ঠী প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছিল, বন্দর নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, বিদেশ এবং জাহাজ মন্ত্রকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সব শর্ত পূরণ না হওয়ায় ছাড়পত্র মেলেনি বলেও আলোচনা ছিল। সেই কারণেই প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যায়।
এখন নতুন সরকারের উদ্যোগে তাজপুর প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে দাদনপাত্রবাড়কে সামনে এনে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে ফের জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প এবং কর্মসংস্থানে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।





