Header AD
Trending

অত্যাচারিত-ঘরছাড়া কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে চালু হচ্ছে ‘এক ডাকে অভিষেক’! কাজে দেবে কি এই কর্মসূচি?

abhishek

ভোটের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু দলের নেতাদের কাউকেই সেভাবে কর্মীদের পাশে দেখা যাচ্ছে না। একদল রাতারাতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নতুন তৃণমূল গঠন করেছেন। যারা এখনও সঙ্গে রয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই ঘরে। কালীঘাট তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কার্যত ঘরবন্দি। কেস, আদালত, হাজিরা, শুনানি- এইসবের মধ্যেই যেন আটকে গিয়েছেন অভিষেক। স্বাভাবিকভাবেই নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অত্যাচারিত কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে ফের ‘এক ডাকে অভিষেক’ (Ek Dake Abhishek)কর্মসূচি চালু করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, নাম । চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর।

ক্ষমতায় থাকার সময়ে ‘দিদিকে বলো’র সমান্তরাল ভাবে তৃণমূল সাংগঠনিক ভাবে শুরু করেছিল ‘এক ডাকে অভিষেক’। ক্ষমতা থেকে সরার দু’মাসের মধ্যেই তৃণমূল যখন ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে, তখন পুরনো কর্মসূচি ফের শুরু করতে চলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে একথা ঘোষণা করেছেন অভিষেক নিজেই।

পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের নেতারা দাবি করেছেন তাঁদের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতারা সাফ জানিয়েছেন, এর সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। বিজেপি কর্মীদের যোগ প্রমাণিত হলে পুলিশকে কড়া শাস্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যদিও বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক-সাংসদদের মুখেও শোনা গিয়েছে সেই ‘অত্যাচারে’র তত্ত্ব। তাঁদের যুক্তি, অত্যাচারিত কর্মীদের পাশে থাকতেই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ কালীঘাট তৃণমূলের পাশ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। বলা হচ্ছে, দুর্দিনে মাঠে-ময়দানে লড়াই করা কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি মমতা-অভিষেক। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া প্রকাশ্যেই আসছেন না তাঁরা। এটা যে কর্মীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাংসদ-বিধায়কদের পাশাপাশি জেলায় জেলায় কর্মীরাও তৃণমূলের থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে ফের ‘এক ডাকে অভিষেক’ চালু হচ্ছে। সমাজমাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িত কর্মীদের সুবিধার্থে যে কোনও আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন।’’ যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে।হেল্পলাইন নম্বরটি হল- ৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭। তবে এতে হারানো কর্মীরা ফিরবেন কি? তা সময় বলবে।

ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দু’দিন ধর্মতলা চত্বরে ধর্না ও মিছিল করলেও সেই অর্থে আন্দোলনমুখী হয়ে রাস্তায় নামেননি। মে মাসের শেষে অভিষেক গিয়েছিলেন সোনারপুরে ‘ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত’ এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। সে দিনই তাঁকে স্থানীয়দের একাংশের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। ডিম ছোড়ার পাশাপাশি, তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়েছিল সোনারপুরের সরু গলিতে। হেলমেট পরে কোনওক্রমে রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি যখন এমনই, তখন এই কর্মসূচি কতটা দাগ কাটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তৃণমূলের অন্দরেই।