Header AD
Trending

তারাতলা কাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য! গুদামের প্ল্যান পাশ করাতে টাকা নিত দালাল, তদন্তে সিট


তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর হাতে উঠে এসেছে অভিযোগ, গুদাম নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন করাতে দালালদের নির্দিষ্ট ‘রেট’ ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতি বর্গফুটের জন্য ২২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দালাল আবদুল হামিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের দাবি, সংশ্লিষ্ট গুদামের মালিক সংস্থার কাছ থেকে তিনি বর্গফুট প্রতি ২০০ টাকারও বেশি অর্থ নিয়েছিলেন। এই টাকা কার কার কাছে পৌঁছেছিল এবং অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় আর কারা যুক্ত ছিলেন, তা জানতেই চলছে টানা জেরা।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এমন বাণিজ্যিক গুদাম নির্মাণের ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার পাশাপাশি দমকল বিভাগের অনুমোদনও বাধ্যতামূলক।

নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিটিতে মেয়র, দমকলের শীর্ষ আধিকারিকরা এবং দমকলমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে আদৌ দমকলের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে SIT।
গোয়েন্দাদের দাবি, অনুমোদন সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক নিয়মিত হতো না। বরং দালালদের মাধ্যমেই প্ল্যান পুরসভায় পৌঁছত এবং গোটা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রাক্তন মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর হাওড়ার শিবপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি মোবাইল ফোন, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং একাধিক রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর ব্যাঙ্ক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


তদন্তকারীদের মতে, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নির্মাণকারী সংস্থা আয়ান ট্রেডার্সের ম্যানেজার গুলজারের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য কোনও চাপ ছিল কি না, কিংবা সেই চাপের জেরে নির্মাণে নিয়মভঙ্গ করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে SIT।


এদিকে, গুদাম ধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ছয় জনের বাইরে আরও পাঁচ জনকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার দুই এলবিএস (লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার)। এছাড়াও পুরসভার আরও কয়েকজন আধিকারিক তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন।
লালবাজার ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার কাছে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান এবং জমা দেওয়া নকশার সমস্ত নথি চেয়ে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছে, নির্মাণের আগে জমির সয়েল টেস্ট বা মাটি পরীক্ষার মতো বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল কি না।


সোমবার গুদামের মালিক সংস্থা বেহরা ব্রাদার্সের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে SIT। তদন্তে জানা গিয়েছে, নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের কোনও সরকারি তালিকা বা উপস্থিতির খাতা সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে আহত শ্রমিকদের বয়ান থেকে পুলিশের অনুমান, দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভিতরে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩ জনের সন্ধান মিলেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।