ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে মামলা করলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একাধিক মিথ্যা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে এবং পুনর্নির্বাচনের আগে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya)-র দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান জাহাঙ্গিরের আইনজীবী।জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ মামলার শুনানি হতে পারে।
ফলতার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি বারবার শিরোনামে উঠে আসেন। ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma)-কে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে ফলতায় পাঠানো হয়। কড়া নজরদারির বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সময় জাহাঙ্গিরের মন্তব্য ছিল, “পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।”
এরপর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক ধাক্কা খায় তৃণমূল। এর মাঝেই ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ মে সেখানে ফের ভোটগ্রহণ হবে, আর ফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বেশ কিছুদিন কার্যত আড়ালেই ছিলেন জাহাঙ্গির খান। তবে গত ১৫ মে তাঁকে ফের নিজের কার্যালয়ে দেখা যায়। পুনর্নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরেই তিনি বলেন, “ফলতার মানুষের উপর আমার ভরসা রয়েছে। মানুষ যে রায় দেবেন, সেটাই মাথা পেতে নেব।”
এদিকে গত শনিবার ফলতায় সভা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) সরাসরি জাহাঙ্গির খানকে নিশানা করেন। তাঁর কটাক্ষ, “কোথায় পুষ্পা? দেখা যাচ্ছে না কেন? এবার কাউকে অশান্তি করতে দেওয়া হবে না।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের উল্লেখ করা ১৯ জন অভিযুক্তের তালিকায় জাহাঙ্গিরের নামও ছিল। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু।এরপরই সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এবং গ্রেপ্তারির আশঙ্কা থেকে সুরক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী।





