একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর এখন তাঁকে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে। শুক্রবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা গেল ফিরহাদকে।
সূত্রের খবর, বিধানসভায় কীভাবে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে, প্রশ্ন উত্থাপন, আলোচনায় বক্তব্য রাখা এবং বিভিন্ন সংসদীয় পদ্ধতি সম্বন্ধে বিধায়কদের পরামর্শ দেন তিনি। প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন-সহ তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে ঋতব্রতর পাশেই বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল ফিরহাদকে। সেই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। শুক্রবারের প্রশিক্ষণ বৈঠকের পর সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে ফিরহাদের নামও বিবেচনায় থাকতে পারে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গত ১৫ বছরে এমন বহু বিধায়ক রয়েছেন, যাঁরা বিধানসভায় কথা বলার সুযোগই পাননি। এবার আমরা চাই প্রত্যেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিন। সেই লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।’
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ফিরহাদ হাকিমের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জাভেদ আহমেদ খান, বিপ্লব মিত্র, গোলাম রব্বানি, চন্দ্রনাথ সিনহা, রথীন ঘোষ, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা-সহ একাধিক প্রবীণ নেতা। তাঁরা নতুন ও তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ বিধায়কদের বিধানসভার কাজকর্ম সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।
এদিকে সূত্রের খবর, বিধানসভার পক্ষ থেকেও নতুন বিধায়কদের জন্য শীঘ্রই দু’দিনের একটি আনুষ্ঠানিক কর্মশালার আয়োজন করা হতে পারে। সেখানে সংসদীয় রীতি ও বিধানসভা পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।





