Header AD
Trending

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাড়ল গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা, কারা আগে পাবে সিলিন্ডার, কারা পরে জানাল কেন্দ্র

lpg cylinder

শনিবার থেকে কলকাতায় গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) ৬০ টাকা দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। শুধু ঘরোয়া গ্যাসই নয়, বাণিজ্যিক এলপিজির দামও এক ধাক্কায় বেড়েছে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। বর্তমানে কলকাতায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৯৯০ টাকা। এই দাম বৃদ্ধির ফলে রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায় খরচ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সমস্যায় পড়তে শুরু করেছে ছোটখাটো হোটেল ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করে দিয়েছে। উপরন্তু কারা সিলিন্ডার আগে পাবেন আর কারা পরে সেই বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছে কেন্দ্র।

বর্তমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গ্যাসের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার এলপিজি বুকিংয়ের পুরনো নিয়ম আবার চালু করেছে। আগে যেখানে ২১ দিনের মধ্যে নতুন সিলিন্ডার বুক করা যেত, এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। সরকারি তরফে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মজুত বা আতঙ্কে বারবার বুকিং (প্যানিক বুকিং) ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দেশে যদি কখনও গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে কোন কোন খাতে আগে গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা নিয়ে একটি অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করেছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহে কোনও কাটছাঁট করা হবে না।

এই অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে—

পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছানো রান্নার গ্যাস

যানবাহন, অটো ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাস

সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাস সরবরাহ

গ্যাস পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি

সরকারের বক্তব্য, মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাতে ব্যাহত না হয়, তাই এই খাতগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হলে শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের সরবরাহ কমানো হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস দেওয়া হতে পারে। সার শিল্পে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং তেল শোধনাগারে মাত্র ৬৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পে। ইতিমধ্যেই হোটেল অ্যাসোসিয়েশন সতর্ক করেছে, যদি বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, তাহলে বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরে হোটেল বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার বেশিরভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হল হরমুজ প্রণালী। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ইরান ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবর। ফলে এলপিজি আমদানি সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, বর্তমানে দেশের গ্যাস মজুত প্রায় ৪০ দিনের মতো রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে। যেমন—চা বাগানে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা, সার শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় খরচ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।