ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম বাজেটেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হল। মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র সব শ্রেণির মানুষের কথা মাথায় রেখে প্রস্তাবিত হল এবারের বাজেট। নিজে ঘুরে হাসপাতালগুলো দেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেগুলির মানোন্নয়নের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বাজেটে প্রতিফলিত।এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য পর্যটনকে।
এরাজ্যে চিকিৎসা করতে আসা ভিনদেশ ও রাজ্যের রোগীরা দীর্ঘদিন থাকেন। সেইসঙ্গে এখান থেকে দক্ষিণ ভারতেও রোগীরা চিকিৎসা করাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় থাকতে বাধ্য হন। তাই চিকিৎসা পর্যটনের ক্ষেত্রে রাজ্যকে অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলতে সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে আমন্ত্রণ জানাতে উদ্যোগ নেবে। যাতে তারা সরকারকে ৫০ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে দেবে।
এছাড়া মুম্বই ও ভেলোরে চিকিৎসা করতে যাওয়া মানুষের জন্য বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সুলভে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।এছাড়া আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পর্যটন হিসাবে গড়ে তুলতে ওই রকম যৌথ উদ্যোগেই পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব তৈরি হবে। হরিপাল, বামনগোলা, দিঘা, ফরাক্কা, মানবাজারের বর্তমান হাসপাতালগুলিকে উন্নত করা হবে। দিঘা, দার্জিলিং ও ফরাক্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে চিকিৎসার জন্য ট্রমা কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হবে। মুর্শিদাবাদের বিড়ি শ্রমিকদের কথা ভেবে হাসপাতালের আধুনিকীকরণ করা হবে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসার স্বার্থে মোটর বোট অ্যাম্বুল্যান্স এবং দ্বীপভিত্তিক প্রসূতি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমানের মতো বঞ্চিত জেলাগুলিতে নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে।
এছাড়াও ১৩টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৬৫০টি এমবিবিএস এবং ৪৫০টি পিজি আসন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। এছাড়াও উত্তরবঙ্গে একটি এইমস এবং বিশিষ্ট ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সুন্দরবন, পুরুলিয়া ও দার্জিলিংয়ে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এদিন বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে রোগীর খাবারেও। ২০১৭ থেকে এসএসকেএম-সহ অন্য সরকারি হাসপাতালে রোগীদের তিন বেলার খাবারপিছু খরচ বরাদ্দ ছিল ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা করে। সেটি বাড়িয়ে তিনি ১১০ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন। যাতে হাসপাতালে ভর্তি থাকা বিশেষ করে দরিদ্র রোগীরা পুষ্টিকর খাদ্য পান।
এদিন বাজেট ঘোষণায় বলা হয়, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য ৩,১০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি পরিযোজনায় জনৌষধি কেন্দ্রগুলিতে সাধারণ ওষুধ ব্র্যান্ডেড ওষুধের থেকে ৫০-৮০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে। এএমআরআইটি প্রকল্প চালু করে জীবনদায়ী ওষুধ, ডিসপোজাল সার্জিক্যাল সামগ্রী, ইমপ্লান্ট ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ কম দামে মিলবে।





