তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা এবার আরও জোরালো। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়েছে, দলের ১৯ জন সাংসদ নিজেদের এনডিএ ব্লকের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এতদিন এই তালিকা নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও প্রকাশিত নথিতে তাঁদের নাম ও স্বাক্ষর সামনে এসেছে।যদিও স্বাক্ষর সংবলিত ওই পাতাগুলি চিঠির অংশ কি না এবং সেই চিঠি আদৌ স্পিকারকে পাঠানো হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা-সাংসদ দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সায়নী ঘোষও। এছাড়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, অরূপ চক্রবর্তী, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, বাপি হালদার এবং ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে ওই তালিকায়।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা।

সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বে বিদ্রোহে রাজ্যে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণে ধাক্কা খাওয়ার পর এবার সংসদীয় দলেও প্রভাব কমতে শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দিল্লিতে গত সোমবারের রাজনৈতিক তৎপরতার পর থেকেই একাংশ সাংসদের এনডিএর প্রতি ঝোঁকের খবর সামনে আসছিল।
সূত্রের দাবি, ৯ জুন দিল্লির ৯ মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রথম দফায় ১৪ জন সাংসদ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। পরে আরও পাঁচজন সাংসদ—মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়—সই করেন।
জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই সাংসদরা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। সেখানে তাঁরা এনডিএকে সমর্থনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো এবং লোকসভায় তাঁদের জন্য পৃথক আসন বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে নতুন করে চিঠি জমা দিতে পারেন। রবিবার রাতেই অধিকাংশ সাংসদ দিল্লিতে পৌঁছবেন বলে খবর। সেদিন একটি নৈশভোজের আয়োজনও করা হয়েছে, যেখানে বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়লেও দলীয় নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
তবে এই আবহে বিদ্রোহী সাংসদদের সই যাচাই করার দাবি তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “সাংসদদের সই বলে যে তালিকা ঘুরছে, লোকসভার অধ্যক্ষের দপ্তরের তরফে সেগুলি সংসদে জমা থাকা ‘স্পেসিমেন সিগনেচারের’ সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হোক। কিছু সই কি স্পেসিমেন সিগনেচারের সঙ্গে মিলছে? দিল্লি সূত্র বলছে, মিলিয়ে দেখা জরুরি।”





