Header AD
Trending

“গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে প্রচার করব, কেউ আমার কন্ঠরোধ করতে পারবে না!” ঋতব্রত-শিবিরকে তীব্র আক্রমণ মমতার

mamata pc

মমতার তৃণমূলে মষুলপর্ব যেন থামতেই চাইছে না।একে একে নিভিছে দেউটি। একের পর এক নেতা মমতাকে ছেড়ে ঋতব্রত শিবরে নাম লেখাচ্ছেন। ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ অর্থাৎ তৃণমূলের প্রতীক যেতে পারে বিদ্রোহী শিবিরের হাতে! এমন জল্পনা আগেই ছিল। শনিবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দলত্যাগের পর সেই জল্পনা আরও একবার সামনে এল। এবার বোধহয় সেই শঙ্কায় শঙ্কিত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)! এ দিন ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বললেন, “প্রতীক চলেও যায়, তাতে কিছু যায় আসে না। রাস্তায় বেরলে আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না। গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে বাড়ি বাড়ি যাব। নতুন করে গড়ে তুলব।”পাশাপাশি দলত্যাগী বিক্ষুব্ধদের তীব্র আক্রমণ করে বললেন, “দুটো মাসও ধৈর্য ধরতে পারলেন না। এত তাড়াতাড়ি বেইমানি করে চলে গেলেন!”

শুক্রবার রাতে বিক্ষুব্ধ ঋতব্রত-তৃণমূল শিবির তালা ঝুলিয়ে মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনের দখল নেয়। ঘটনার সুত্রপাত সেখান থেকেই। এই ঘটনার রেশ ধরে শনিবার সকালে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য চন্দিমাকে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে বিধানসভায় বৈঠক করতে দেখা যায়। তারপরই ফেসবুক লাইভে এসে বিক্ষুব্ধ শিবিরকে কড়া আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দল ভাঙানোর পিছনে বিজেপির ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় লাইভে আসেন মমতা। সেখানে প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা শোনা যায় তাঁর গলায়। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করে সিম্বল কেড়ে নিতে পারেন। যদিও আমরা জানি সিম্বল আপনার পক্ষে যাবে না। কিন্তু ধরে নিলাম যদি ভ্যানিশ কুমারবাবু (জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার) যদি সিম্বল দিয়েও দেন তাতে কি যায় আসে? সিম্বল সেটাই হয় যেটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে। আমি এই সিম্বল নিয়ে লড়াই করেছিলাম। আর এখন দরকারে গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যখন বেরব। আপনারা কি আমার কন্ঠরোধ করতে পারবেন?”

এ দিকে ২১ জুলাই সমাবেশ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। ধর্মতলায় সভা নিয়ে অনুমতি মেলেনি। কোথায় সেই মিটিং হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। মমতা এদিন সাফ জানিয়েছেন যে০-কোনও মূল্যে ২১ জুলাই শহিদ সমাবেশ করবেন তাঁরা। মমতা বলেন, “রিক্সা চড়েও হলেও হবে ২১ জুলাই। এখন স্থান ঠিক হয়নি। জানিয়ে দেওয়া হবে।”

শনিবার ফেসবুক লাইভ করে মমতা ঘোষণা করেন, চন্দ্রিমার বিদায়ের পর তিনিই রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সংগঠন চালানোর সুবিধায় দুই সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করলেন তিনি। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ হলেন রাজ্য তৃণমূলের নতুন দুই সাধারণ সম্পাদক।মমতার কথায়, ‘‘কে ছেড়ে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেতা চাই না, সাধারণ কর্মী চাই। দলের রাজ্য সংগঠনটাও এখন আমি চালাব। আপাতত সারাদিন দলটাই দেখব। এমনি আমি রোজ এই পার্টি অফিসে বসি, কর্মীদের সঙ্গে দেখা করি। এবার থেকে আরও বেশি সময় দেব। এছাড়া কাজ চালাতে সুবিধার জন্য দু’জন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ঠিক করেছি। মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ হবেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা এই কাজে আমাকে সাহায্য করবেন।”

শনিবার ফেসবুক লাইভে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি। পাশাপাশি মানুষের কাজ করলে পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি বলেন, “আপনিও তৃণমূল করেছেন বহু বছর। আগে কংগ্রেসও করেছেন। তবে আপনিও হেরেছেন। আপনার জন্য আমি প্রচারে গিয়েছিলাম। ওটা যদিও আমার দায়িত্ব ছিল। আপনি তৃণমূল সরকারের একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন, ৬ জেলার দায়িত্বে ছিলেন। হলদিয়া ও দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ আপনাদের হাতেই ছিল।” এরপরই বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা আপনার সঙ্গে গেল তাঁরা সাধু হলে গেল। যারা গেল না, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই, আরও কতকিছু। মনে রাখবেন, সব ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া রয়েছে।”