Header AD
Trending

‘বাধা দিলে রাস্তাতেই বসব’— কর্মসূচি ঘিরে কেন্দ্র ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মমতার

new mamata

মঙ্গলবারের কর্মসূচি ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি জানান, অনুমতি মিলুক বা না মিলুক, নির্ধারিত কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন। প্রয়োজন হলে রাস্তায় বসে আন্দোলন করবেন, গ্রেপ্তার হলেও পিছিয়ে আসবেন না।

মমতার অভিযোগ, বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার ক্রমশ সংকুচিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের তরফে কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং মাইক্রোফোন ব্যবহারের জন্য নতুন করে অনুমতি আনতে বলা হয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র একদিন আগে এ ধরনের নির্দেশ কার্যত অযৌক্তিক বলেই দাবি তাঁর। মমতার প্রশ্ন, আগে থেকে যদি আপত্তি থাকত, তবে তা আগে জানানো হল না কেন?

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, সকলেই যেন কর্মসূচিতে যোগ দেন। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ ঢুকতে না দিলে রাস্তাতেই বসব। মারলে মার খাব, গ্রেপ্তার করলে হব। কিন্তু আন্দোলন থামবে না।”

এদিন কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, বাংলায় “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” চলছে এবং পুলিশকে ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি বিধায়ক ও কর্মীদের ভয় দেখিয়ে দল ছাড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গেও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ভোটে কারচুপি ও ইভিএম হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বহু আসনের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিজেও এর শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

সম্প্রতি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, তাঁকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। হামলাকারীদের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকত।

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, কর্মীদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় প্রশাসনের একাংশ নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাঁর কথায়, “যারা রক্ষক, তারাই ভক্ষকের ভূমিকায় নেমেছে। আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই।”

বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা জানান, যতই চাপ সৃষ্টি করা হোক না কেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙা যাবে না। বরং প্রতিটি আঘাতের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেই তাঁর দাবি।সবশেষে কেন্দ্রীয় শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক এবং ইতিহাসেও এমন নজির খুব কম দেখা গেছে।

তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। হিটলার ও এরকম অন্ধকার ইতিহাস তৈরি করতে পারেনি। মাথা নত করব না। সর্বোচ্চ আমাকে শেষ করে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু আন্দোলনের পথ থেকে সরানো যাবে না।”