বঙ্গ নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আবহে তৃণমুলের নেতা কর্মীদের গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও তাঁর স্ত্রী রুজিরার গাড়িতেও তল্লাশির নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ইসলামপুরের জনসভা থেকে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন কমিশনের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি গর্জে ওঠেন, “আজ দমদম বিমানবন্দরে আমার গাড়ির কাছেও এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমি বললাম, চেক করো চেক করো। আমি চাই চেক করো। তৃণমূলের সব নেতার গাড়িতে তল্লাশি হলে, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিআরপিএফের গাড়িতে তল্লাশি হবে না? বিজেপির গাড়ি কেন তল্লাশি হবে না? শুধু তৃণমূলের গাড়িতে কেন হবে? আমি গাড়ি ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু ওরা পালিয়ে গেল।” নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রকে একযোগে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন,‘‘সাহস থাকলে সকলকে বাদ দিয়ে প্রতি দিন আমার গাড়ি তল্লাশি করুন।”
বুধবার পয়লা বৈশাখের দিনও নির্বাচনী জনসভা করলেন তৃণমূল নেত্রী। উৎসবের আবহকে প্রচারের হাতিয়ার করলেন। এদিন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে দলীয় প্রার্থী হামিদুল রহমান ও কানহাইয়া লাল আগরওয়ালের সমর্থনে প্রচার করেন মমতা। সেই সভা থেকেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের সরব হন নেত্রী। সেখান থেকেই মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘আমার গাড়ি তল্লাশি করতে এসেছিল, আমি খুশি হয়েছিলাম। বিজেপির মতো আমি চোর, ডাকাত নই। আমি রাজনীতি করি। সরকারের থেকে এক পয়সা স্যালারিও নিই না।’’পাশাপাশি কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি গর্জে ওঠেন,‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা টাকা নিয়ে আসছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে কী কী আসে, আমি জানি।’’। মমতার অভিযোগ, দিল্লি থেকে টাকার ‘হুন্ডি’ নিয়ে ভোটপ্রচারে আসছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিনের সভা থেকে নাম না করে IPAC -এর অন্যতম কর্ণধার ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তারির ঘটনার প্রতিবাদেও সরব হন মমতা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘নির্দেশ দিয়ে বলছে তৃণমূলের সকলকে গ্রেপ্তার করো।’’ তার পরেই মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘তৃণমূলের এক জন গ্রেপ্তার হলে মনে রাখবেন, আপনাদের হাজার জন গ্রেপ্তার হবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি কী করছে, পুরো কেন্দ্রীয় সরকারকে এখানে নিয়ে আসছে। আমার লড়াই শুধু বিজেপির সঙ্গে নয়, আইনকানুন ছাড়া সব ক্ষমতার বিরুদ্ধে।’’
প্রসঙ্গত, এদিন মঞ্চে উঠে দলীয় প্রার্থীদের নাম পড়তে গিয়ে আটকে যান মমতা। কে, কোন কেন্দ্রের প্রার্থী, তা নিয়ে ধন্দ দেখা দেয়। পরে মমতা রেগে গিয়ে মঞ্চে থাকা তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, ‘‘কে কোথাকার প্রার্থী, লেখা নেই কেন?’’একই সঙ্গে সভায় দেরিতে পৌঁছানোর জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “আমায় বলা হয়েছিল শিলিগুড়ি থেকে পাঁচ মিনিট লাগবে। কিন্তু আমার কুড়ি মিনিট লাগল।” সময় জনিত কারণে এদিন তাঁর বক্তব্য দীর্ঘায়িত করবেন না বলেও সভার শুরুতেই জানান তিনি।





