Header AD
Trending

‘কাটমানি না দিলে মিলত না সুযোগ!’,শুভেন্দুর দরবারে’ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ গায়িকা ঋদ্ধির

riddhi

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই লক্ষ্যেই উত্তরপ্রদেশের ‘জনতা দরবার’-এর আদলে এরাজ্যেও শুরু হয়েছে তাঁর জনসংযোগ কর্মসূচি। প্রতি সপ্তাহের সোমবার সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে চলতি সপ্তাহে মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ গঠন অনুষ্ঠান থাকায় নির্ধারিত সোমবারের পরিবর্তে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জনতার দরবার।

এদিন সেখানে উপস্থিত হয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় (Riddhi Banerjee)। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে শিল্পীদের কাছ থেকে ‘কাটমানি’ চাওয়া হত। অভিযোগের তির তিনি ছুঁড়েছেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ গায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) দিকে।

ঋদ্ধির পাশাপাশি এদিন সেখানে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান আরেক শিল্পী দোলা মুখোপাধ্যায়ও।

ঋদ্ধির বক্তব্য, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ থাকায় তাঁর জীবিকা নিয়ে সমস্যা হয়নি। কিন্তু রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বারবার বঞ্চিত হতে হয়েছে তাঁকে। কখনও সুযোগ এলেও তার বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি আরও দাবি করেন, নির্দিষ্ট একটি ‘লবি’র সঙ্গে যুক্ত না থাকায় তাঁকে দীর্ঘদিন ব্রাত্য থাকতে হয়েছে।

শুধু ঋদ্ধিই নন, একাধিক ক্ষুব্ধ শিল্পীর অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে সঙ্গীত জগতে কার্যত ‘সিন্ডিকেট রাজ’ কায়েম হয়েছিল। তাঁদের দাবি, সরকারি অনুষ্ঠানে বারবার একই গোষ্ঠীর শিল্পীদের সুযোগ দেওয়া হত এবং অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক লেনদেন চলত। এর ফলে বহু প্রতিভাবান শিল্পী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নতুন সরকারের কাছে এই অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক শিল্পী।

অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর পাল্টা দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, জীবনে কখনও কোনও শিল্পীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া তো দূরের কথা, একটি মিষ্টিও গ্রহণ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে, তা তিনি মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

এছাড়াও ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় হুমকি ফোন পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীলের বক্তব্য, গত আট-নয় বছর ধরে ঋদ্ধির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। এমনকি তাঁর ফোন নম্বরও তাঁর কাছে নেই। হুমকি ফোনের ঘটনায় যদি কোনওভাবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে তা মাথা পেতে নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।