Header AD
Trending

সোমবারই কি বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল! বদলাতে পারে বিয়ে-ডিভোর্স থেকে উত্তরাধিকার আইন

suvendu falta

রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে বিজেপি সরকার। সূত্রের খবর, সোমবার বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ হতে পারে। বিলটি পাশ করাতে সরকার ইতিমধ্যেই সক্রিয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র নেতৃত্বাধীন সরকার উত্তরাখণ্ড, গুজরাট এবং অসমের মডেল খতিয়ে দেখে বাংলার জন্য আলাদা কাঠামো তৈরির ভাবনা নিচ্ছে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল ভিত্তি ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান দেওয়ানি আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ভিনধর্মে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, দত্তক গ্রহণ ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত পৃথক আইন রয়েছে—যেমন Hindu Marriage Act, Hindu Succession Act কিংবা মুসলিম পার্সোনাল ল। ইউসিসি চালু হলে এই ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনগুলির পরিবর্তে সকলের জন্য একক আইন কার্যকর হতে পারে।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে। ধর্ম নির্বিশেষে একই নিয়মে বিয়ে ও ডিভোর্স সম্পন্ন হবে। উত্তরাখণ্ডের মডেল অনুসরণ করলে বাংলাতেও বিয়ের সরকারি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হতে পারে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনও বিবাহ আইনি স্বীকৃতি পাবে না। পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ এবং নারীর ১৮ বছর নির্ধারিত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিবাহিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়েও বেআইনি বলে গণ্য হবে।

সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইনেও বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বহু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানের কারণে মহিলারা সমান সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। নতুন ব্যবস্থায় বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হতে পারে। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনে আর কোনও বৈষম্য থাকবে না। বিধবারাও স্বামীর সম্পত্তিতে সমান অংশীদার হতে পারেন।

লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়েও কঠোর নিয়ম আনার আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডে যেমন লিভ-ইন সম্পর্ক সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক, বাংলাতেও তেমন ব্যবস্থা আনা হতে পারে। রেজিস্ট্রেশন না করালে জরিমানা বা কারাদণ্ডের বিধান থাকতে পারে বলেই জল্পনা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক হতে পারে। সরকারের দাবি, এতে প্রতারণা, শোষণ এবং বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা কমানো সম্ভব হবে।

তবে অসমের মতো পশ্চিমবঙ্গেও আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়কে ইউসিসির বাইরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাদের নিজস্ব সামাজিক রীতি ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখা হতে পারে।

শুধু বাংলা নয়, বিজেপি-শাসিত আরও একাধিক রাজ্যে ইউসিসি চালুর প্রস্তুতি চলছে। মধ্যপ্রদেশে খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, পাশাপাশি ছত্তিশগড়, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশেও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।যদিও বিরোধী শিবিরের প্রবল আপত্তি রয়েছে, তবু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নারীর অধিকার ও সামাজিক সমতার প্রশ্নে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এখন নজর থাকবে—বাংলায় এই আইন কার্যকর হলে তার বাস্তব রূপ ঠিক কেমন হয় এবং আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে কী ধরনের শাস্তির বিধান আনে সরকার।