Header AD
Trending

অভিষেকের পর চণ্ডীতলায় আক্রান্ত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!মাথায় আঘাত, ‘চোর’ স্লোগান, সাংসদকে দেখতে গেলেন মমতা

kalyan

পরপর দু’দিন জনরোষের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা। শনিবার সোনারপুরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উপর হামলার ঘটনার পর রবিবার হুগলির চণ্ডীতলায় আক্রান্ত হলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।তাঁর অভিযোগ, কালো পতাকা প্রদর্শন, ‘চোর’ স্লোগান এবং ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালানো হয় তাঁর উপর।এর জেরে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।আহত সাংসদকে দেখতে তড়িঘড়ি তাঁর বাড়ি ছুটে যান দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়া ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

জানা গিয়েছে, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে রবিবার হুগলীর চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাচ্ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল। অভিযোগ, থানার কাছাকাছি পৌঁছতেই বিক্ষোভকারীরা তাঁদের ঘিরে ধরে। প্রথমে কালো পতাকা দেখানো হয়, পরে শুরু হয় স্লোগান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার মধ্যেই সাংসদকে লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

মাথায় চোট পেয়ে রাস্তায় পড়ে যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে থাকা দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি চণ্ডীতলা থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন।ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলায় গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। একজন সাংসদ যদি এভাবে আক্রান্ত হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

গোটা ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে লম্বা পোস্ট করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলায় বিরোধী কণ্ঠরোধ ও বিজেপির হিংস্র রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বাংলায় রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও হিংসার এক চরম রূপ দেখছে দেশবাসী। গতকাল লোকসভার সংসদীয় দলনেতা শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কাপুরুষোচিত হামলার পর, আজ লোকসভার আমাদের চিফ হুইপ শ্রী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একের পর এক বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করে এই ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, অমানবিক এবং গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। আজ আক্রান্ত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিলাম।বিজেপির এই ধারাবাহিক হিংসাত্মক আচরণের বিরুদ্ধে আমি তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কোথায়? দেশের সংসদের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও প্রবীণ আইনপ্রণেতারাও যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারা স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের ভুয়ো অজুহাত দিয়ে নিজেদের দলীয় দুষ্কৃতীদের রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। দিল্লির প্রশ্রয়েই কি এই তাণ্ডব? “নতুন ভারতের” দোহাই দিয়ে বিরোধীদের ওপর এই ধরনের শারীরিক আক্রমণ কি দিল্লির শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রচ্ছন্ন মদতেই ঘটছে?
বাংলা চিরকালই সংস্কৃতি, সৌজন্য ও সুস্থ রাজনীতির পীঠস্থান। এখানে গুন্ডামি এবং হিংসার কোনো স্থান নেই। আমি এই কাপুরুষোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজপথে এবং আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। তীব্র ধিক্কার জানাই এই অমানবিক ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতাকে!’

এদিনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারা হামলা চালাল এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হল না। জবাবে পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।

এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। চুঁচুড়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, আসানসোলে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে জেলা তৃণমূলের উদ্যোগে অবস্থান বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।