Header AD
Trending

চলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী! ‘পূর্বতন সরকারের কোনও প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না’, জানালেন শুভেন্দু

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো পূর্বতন সরকারের একাধিক জনমুখী সামাজিক প্রকল্প কি বন্ধ হয়ে যাবে? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বহু উপভোক্তার মধ্যেই এই বিষয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে গ্রামবাংলার মহিলাদের একাংশ এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপর চিকিৎসার জন্য নির্ভরশীল পরিবারগুলির উদ্বেগ ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সেই জল্পনায় অনেকটাই জল ঢাললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “চলতি কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে না।”

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর সোমবার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে সাফ জানান, “প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা চালু থাকবে। তবে প্রতিক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা হবে। কোনও মৃত ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এছাড়া কোনও ‘অভারতীয়’কেও সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না।”

তৃণমূল সরকারের আমলে সবচেয়ে জনপ্রিয় জনমুখী প্রকল্পগুলির মধ্যে প্রথম সারিতেই ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি পরিবারের মহিলাদের মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য সেই অনুদানের পরিমাণ ছিল ১৭০০ টাকা। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতেন রাজ্যের বাসিন্দারা। অন্যদিকে কয়েকমাস আগেই রাজ্যে বেকার যুবক যুবতীদের জন্য চালু হয়েছিল যুবসাথী প্রকল্প।সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজ্য জুড়ে। তবে সোমবার নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সেই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন, বাংলায় চালু হচ্ছে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। তাঁর দাবি, এর ফলে সাধারণ মানুষ আরও বিস্তৃত স্বাস্থ্যসুবিধা পাবেন।

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সরকারি প্রকল্পের পর্যালোচনা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর মতো একাধিক বিষয়ে নতুন সরকার জোর দিতে চলেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিনের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মূলত যে ৬ টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলি হল,প্রথম সিদ্ধান্ত: ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিল রাজ্য সরকার।দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত: রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই সীমান্ত রক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করা হবে। তৃতীয় সিদ্ধান্ত: ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হল রাজ্য। চতুর্থ সিদ্ধান্ত: রাজ্যের আইপিএস, আইএএসরা কেন্দ্রের কোনও ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারতেন না। এবার থেকে চাইলে তাঁরা পারবেন।পঞ্চম সিদ্ধান্ত: আজ থেকে রাজ্যে লাগু ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি লাগু ছিল বঙ্গে। ষষ্ঠ সিদ্ধান্ত: সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হল।

এদিকে, সোমবার সকালেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বাড়ান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে তিনি বৈঠক করেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সঙ্গে।সূত্রের খবর, রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই মূলত আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। সরকার পরিবর্তনের পর কোনওভাবেই যাতে অশান্তি বা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও কড়া বার্তা দেন। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বজায় রাখা এবং দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিতেও জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।