রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির দলবদলের ঘটনা সামনে এসেছে। এই আবহে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা জোরালো হয়েছে প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী তথা শ্যামপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক শশী পাঁজাকে ঘিরে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনিও নাকি শীঘ্রই তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এই জল্পনার সূত্রপাত শনিবার। এদিন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যান শশী পাঁজা। জানা গিয়েছে, সেখানে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে দুই নেত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়। যদিও শশী পাঁজা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়েই জানিয়েছেন, তিনি নাকি ব্যক্তিগত কারণেই সেখানে গিয়েছিলেন।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কারণ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং এনডিএ-র বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছে।
জল্পনায় আরও ইন্ধন যোগায় কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট। সেখানে তিনি দাবি করেন, শশী পাঁজা খুব শিগগিরই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শশীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন শশী পাঁজা। নির্বাচনের পর তাঁকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও, তাঁর মেয়ে তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর পূজা পাঁজা ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, শশী পাঁজা এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন।
তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত শশী পাঁজা দল ছাড়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।





