সাইবার প্রতারকদের ফাঁদ দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে সারা জীবনের সঞ্চয়। নবীন থেকে প্রবীণ— কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। এমনকি সমাজের প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।এই ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।রাজ্যের সব থানায় সাইবার হেল্পডেস্ক চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে নতুন সাইবার সহায়তা কেন্দ্রের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, সাইবার প্রতারণা এখন প্রায় মহামারির রূপ নিয়েছে। তাঁর কথায়, জনতার দরবারে নিয়মিত বহু প্রতারিত মানুষের অভিযোগ উঠে আসছে, যার মধ্যে প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের প্রতিটি থানায় সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হেল্পডেস্ক চালু হবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারেন এবং প্রতারিত অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগে রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে। পুলিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য ডিজি ও এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সাইবার সেলে সিনিয়র আধিকারিক নিয়োগের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগগুলি-
সাইবার অপরাধ রোধে রাজ্যের প্রতিটি থানায় বিশেষ হেল্পডেস্ক চালু
প্রতারণার ঘটনা ঘটার পর ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে অভিযোগ জানালে অর্থ লোপাট ঠেকানোর সম্ভাবনা বেশি
২ থেকে ৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে
ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক আর্থিক জালিয়াতি রুখতেও বিশেষ নজর
সাধারণ মানুষের সহায়তায় ১৯৩০ হেল্পলাইন নম্বর ও অনলাইন পোর্টাল চালু
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেকোনও অপরাধ মোকাবিলায় নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বাধা বা হামলার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।





