রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ ও বেআইনি সম্পত্তি বৃদ্ধির অভিযোগের আবহে সোমবার বিধানসভায় পেশ হল ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’(West Bengal Public safety and Control of Anti-social Activities Bill, 2026), যা সাধারণভাবে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এই বিলটি সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন।
বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে লুটপাট, সন্ত্রাস ও দখলদারির রাজনীতি বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারকে বহুক্ষেত্রে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন এই আইন সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে এবং পুলিশের ক্ষমতা বাড়াবে।
শংকর ঘোষ আরও বলেন, গরিব মানুষের অর্থ লুট বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করার সাহস যাতে কেউ না পায়, সেই লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
অন্যদিকে এদিন বিলের বিরোধিতায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হট্টগোলের কারণে বক্তব্য শেষ করতে পারেননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পিকারের কাছে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক তথা পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, অতীতে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, উস্কানিমূলক মন্তব্য বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টাও এই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য হতে পারে।
তবে বিল নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির। ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের মতো ক্ষমতা পুলিশের হাতে গেলে তার অপব্যবহারের সম্ভাবনা থেকে যায়। তাঁর দাবি, প্রকৃত অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাক, তবে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।
বিলের খসড়া অনুযায়ী, সমাজে আতঙ্ক তৈরি করে বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন নানা কর্মকাণ্ডকে সমাজবিরোধী কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি খনি বা বালি ব্যবসা, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ শোষণ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত অঙ্কের দ্বিগুণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে পারবে। সরকারের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেআইনি সম্পদ উদ্ধার—দুই ক্ষেত্রেই এই বিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।





