ফের নিট পরীক্ষার্থীর (NEET Aspirant Suicide) আত্মহত্যা! এবার মধ্যপ্রদেশের নবগঠিত জেলা মৌগঞ্জের বাসিন্দা এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। মৃত ছাত্রীর নাম আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। জানা গিয়েছে, ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন তিনি এবং পরিবারের অভিযোগ তাঁর মৃত্যুর জন্য নিটের প্রশ্নফাঁস দায়ী। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রকে নিশানা করেছে দেশের বিরোধী শিবির। ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে পোস্ট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন রাহুল গান্ধীও।
সূত্রের খবর, নিট পরীক্ষার ভালোই প্রস্তুতি নিয়ে আকাঙ্ক্ষা পরীক্ষায় বসেন। তিনি ৬৫০ নম্বর পাবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের জন্য সেই পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হলে তারপর থেকেই তিনি অবসাদে ভুগছিলেন। অবশেষে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সাহস দেখাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে অনুমান পুলিশের।
ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে পুলিশ। লেখা রয়েছে, ‘সরি, মা-বাবা, তোমরা ভেবেছিলে তোমাদের মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু আমার আর নতুন করে নিট দেওয়ার সাহস নেই। আমি তোমাদের দুইজনের জীবন নষ্ট করে দিয়েছি। কোনও গ্যারান্টি নেই যে আমি আবার এটা করতে পারব।’
এই ঘটনা প্রসঙ্গে এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি লেখেন, “দেশ আজ এক অমূল্য তরুণ প্রাণ হারাল। একজন NEET পরীক্ষার্থী যার চোখে ছিল স্বপ্ন, তিনি আর আমাদের মধ্যে নেই। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।”
এরপরেই তিনি লেখেন, “একটি স্বপ্ন নিভে গেল, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া যন্ত্রনা সারাজীবন প্রতিধ্বনিত হবে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন মর্মান্তিক ঘটনা নয়। বিজেপির অধীনে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা যে চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে, এটা তারই প্রতিফলন। প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে বারবার অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কেন্দ্র মেধাকে জুয়ায় এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে হতাশায় পরিণত করেছে। এই অমানবিক শাসনব্যবস্থা বারবার এবং নির্লজ্জভাবে যুবসমাজের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।”
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রের চরম গাফিলতির দিকে আঙ্গুল তুলেছেন ক্ংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী(Rahul Gandhi )। তিনি বলেন, “তিনি ডাক্তার হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর বাবা একজন কৃষক। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি কিষাণ ক্রেডিট কার্ড থেকে ৩ লক্ষ টাকার ঋণ নেন। আর তিনি নাগপুরে একজন বাবুর্চির চাকরি নেন, যাতে তাঁর মেয়ে সেখানে কোচিংয়ে যেতে পারে। একজন বাবা সাধ্যমত সবকিছুই করেছিলেন। তারপর, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেল। পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেল। সেই অনিশ্চয়তার মাঝে এই ছাত্রী আমাদের চিরদিনের জন্য ছেড়ে চলে গেলেন। এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়া ব্যবস্থার মর্মান্তিক পরিণতি।”





