Header AD

নববর্ষের মিষ্টিতেও জ্বালানি কাঁটা! যুদ্ধের আঁচে বেড়েছে দাম, পকেটে টান মধ্যবিত্তের

bengali sweets

বাঙালির পয়লা বৈশাখ মানেই মিষ্টিমুখ, হরেক মিষ্টির তত্ত্ব। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব এবার এসে পড়েছে সেই নববর্ষের মিষ্টির বাজারেও। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহে সঙ্কট- দুইয়েরই প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এবারের পয়লা বৈশাখের মিষ্টি আগের বছরের মতো অতটা ‘মিষ্টি’লাগছে না। শহরের নামী মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার ছোটখাটো ময়রা, জেলা ও মফস্বল সব জায়গাতেই একই ছবি। নববর্ষের আগে থেকেই বেশিরভাগ মিষ্টির দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে অনেকটা।

নতুন বছরে হালখাতা ঘিরে প্রতি বারই পয়লা বৈশাখের দুই-এক দিন আগে থেকে মিষ্টির দাম ও আকারে কিছুটা বদল দেখা যায়। যেমন- দাম বাড়ে, আকার ছোট হয়। মূলত বিভিন্ন দোকানে হালখাতার জন্য বিপুল চাহিদাই এর কারণ। তবে এ বছর পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন এবং জটিল। একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হওয়ায় আগেই মিষ্টির দাম বাড়িয়েছিল দোকানগুলি । আর গত দুদিনে তা আরও বড়েছে বলেই খবর । যে কারণে বাড়ির জন্য মিষ্টি কিনতে গিয়েও দামের ছেঁকায় হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তের। এমনকি বহু ছোট ও মাঝারি মিষ্টির দোকান এ বছর হালখাতার মিষ্টির অর্ডার নেওয়া থেকেও বিরত ছিল ।

দোকান মালিকদের দাবি, এপ্রিলের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও পুরোপুরি স্থিতি ফেরেনি। জ্বালানি সঙ্কটের কারণে এলপিজি পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মিষ্টিশিল্পের এক সংগঠনের সদস্য জানান, কিছু মিষ্টির দাম ইতিমধ্যেই ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি পলিমারের দাম বাড়ায় প্যাকেজিং খরচও প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। কেউ কেউ সামান্য দাম বাড়িয়েছেন, আবার অনেক দোকান খরচ সামাল দিতে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে দাম খুব বেশি না বাড়িয়ে মিষ্টির আকার ছোট করে দিচ্ছেন।

এই পরিবর্তন ক্রেতারাও স্পষ্টভাবে টের পাচ্ছেন। আগে যে মিষ্টি ১০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ১৫ টাকা। ১৫ টাকার মিষ্টি পৌঁছে গিয়েছে ২০ টাকায়। গড় হিসাবে প্রায় সব মিষ্টির দামই বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা করে। ব্যবসায়ীদের কথায়, এ বার পরিস্থিতি অন্যরকম। গ্যাসের লাগামছাড়া দামের জেরে মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও। অনেক ক্রেতাই আগের তুলনায় কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন।