শুক্রবার সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ। লেভেল ক্রসিং খোলা থাকায় দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রেন ধাক্কা দেয় একটি পুলকার ও সাইকেল আরোহীকে।ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে মৃত্যু দুই শিশু সহ ৩ জনের।তবে বর্তমানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। মৃতদের মধ্যে রয়েছে জেসিকা ইয়াসমিন (৯), ফারহানা সুলতানা (৬), জামশেদ আলি (৬৫)।চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত এলাকা। নেশাগ্রস্ত গেটম্যানের উদাসীনতায় এই ঘটনা বলেই দাবি স্থানীয়দের। সেই কারণেই কেবিনে তাঁকে আটকে তালাবন্ধ করে দেয় উত্তেজিত জনতা। তাঁদের সাফ দাবি, কড়া শাস্তি দিতে হবে। পরবর্তীকালে বহরমপুর থানার পুলিশ গিয়ে গ্রেপ্তার করে গেটম্যানকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকরা।
এদিকে দুর্ঘটনার (Murshidabad Accident) তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রেল। মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। আহতদের দেওয়া হবে আড়াই লক্ষ টাকা। রাজ্যের তরফে মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ।
এদিন এক্স হ্যান্ডেলে মুর্শিদাবাদের দুর্ঘটনা নিয়ে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে লেখেন, “কোনও প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।রাজ্যের পুলিশ ইতিমধ্যেই রেলওয়ের গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। আমি কথা দিচ্ছি, যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও লেখেন, “আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি আহত ও মৃতদের পরিবারগুলো সব ধরনের সাহায্য করার জন্য। মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ ইতিমধ্যেই হাসপাতালে গিয়েছেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন। চিকিৎসাধীনদের যাতে সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়া যায়, তা আমরা দেখছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি তদারকি করছেন।”





